বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাউছিয়া সড়ক, বাদশাহী জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে চরম বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক মোঃ লিটন হাওলাদার। দুই স্ত্রীর মধ্যে রেষারেষি ও তালাকের চাপকে ঘিরে তার সংসার বর্তমানে ভাঙনের মুখে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিটন হাওলাদার ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে বরগুনার বেতাগী উপজেলার ফুলতলা এলাকার মোঃ হারুন মুন্সির মেয়ে মোসাঃ আসমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১১ বছরের এক ছেলে ও ৮ বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
প্রথম স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করার সুযোগে প্রায় দুই মাস আগে রূপাতলী এলাকার ভাড়াটিয়া মোসাঃ সিরিন আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। জানা যায়, সিরিন আক্তারের আগের স্বামীর সঙ্গে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তার আগের সংসারে ১৩ বছরের এক মেয়ে ও ৮ বছরের এক ছেলে রয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি প্রথম স্ত্রী আসমা আক্তার হঠাৎ গ্রাম থেকে বরিশাল সদরে চলে আসেন। এরপর থেকেই দুই স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় সাংসারিক কোন্দল। লিটন দুই স্ত্রীকে একই বাসায় রাখতে চাইলেও প্রথম স্ত্রী এতে রাজি নন। তার অভিযোগ, লিটন দ্বিতীয় স্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং তাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী সিরিন আক্তারের দাবি, তার কাবিনের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিলে তিনি সংসার ছাড়তে প্রস্তুত। প্রথম স্ত্রীরও অভিযোগ, লিটন তাকে একাধিকবার তালাক দেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে তিনিও স্বামীকে ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। তবে লিটনের বক্তব্য, তিনি দুই স্ত্রী নিয়েই সংসার করতে চান।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে প্রথম স্ত্রী মামলা করতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
গত দুই দিন ধরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও লিটনের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এদিকে পারিবারিক এই দ্বন্দ্বে চার শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরিফুর রহমান সোহাগ 











