০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, আটক শিক্ষক

সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি চা দোকানে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা দেখতে দেখা যায় শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে। তার সঙ্গে থাকা আরও দুজনকেও উত্তরপত্র পর্যালোচনা করতে দেখা যায়।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চা দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পাশাপাশি বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক সিলেটের মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাবিপ্রবি সংলগ্ন চা দোকানে বসে ইকবাল হোসেন বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজনকেও উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। খাতাগুলো একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল।

খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, ‘গতরাতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে থানায় আসেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। যেহেতু উত্তরপত্রগুলো শিক্ষা বোর্ডের জিম্মায় রয়েছে এবং বিষয়টি তাদের প্রশাসনিক আওতায়, তাই প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা খবর পাই, একজন শিক্ষক জনবহুল একটি স্থানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন। খবর পাওয়ার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উত্তরপত্রগুলো আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে পুরো বিষয়টি নথিভুক্ত করার জন্য শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত বিধি ও নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

পারিবারিক কলহে রাজধানীতে জামাতার ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে নিহত

বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, আটক শিক্ষক

Update Time : ০৩:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটে চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি চা দোকানে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা দেখতে দেখা যায় শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে। তার সঙ্গে থাকা আরও দুজনকেও উত্তরপত্র পর্যালোচনা করতে দেখা যায়।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চা দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এক বস্তা উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পাশাপাশি বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক সিলেটের মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাবিপ্রবি সংলগ্ন চা দোকানে বসে ইকবাল হোসেন বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজনকেও উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। খাতাগুলো একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল।

খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তরপত্রগুলো জব্দ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, ‘গতরাতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে থানায় আসেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। যেহেতু উত্তরপত্রগুলো শিক্ষা বোর্ডের জিম্মায় রয়েছে এবং বিষয়টি তাদের প্রশাসনিক আওতায়, তাই প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা খবর পাই, একজন শিক্ষক জনবহুল একটি স্থানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন। খবর পাওয়ার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উত্তরপত্রগুলো আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে পুরো বিষয়টি নথিভুক্ত করার জন্য শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত বিধি ও নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’