১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়াবী চিত্রা হরিণটির পা চেপে ধরেছেন একজন, অন্যজন কোপাচ্ছেন দা দিয়ে

জলাশয়ের কিনারে একটি মায়াবী চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে রয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্য একজন দা দিয়ে কুপিয়ে হরিণটির গলা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে এমন চিত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালি ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায়। এই এলাকার পাশেই অবস্থিত মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে হরিণ জবাইয়ের ঘটনাটি ঘটে ১১ এপ্রিল।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছয় সেকেন্ডের। হরিণ জবাইয়ের সময় কাছাকাছি স্থান থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি এ সময় অনেকটা ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন করেন, ‘ভিডিও কেন ধারণ করা হচ্ছে।’ পাল্টা জবাবে ভিডিও ধারণকারী এতে কী সমস্যা জানতে চান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে এ ঘটনার সমালোচনায় মেতে ওঠেন অনেকেই। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিও জানান তাঁরা। বন বিভাগ জানায়, আগে মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালির আশ্রয়স্থল। তবে এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড় হতে শুরু করে। এর ফলে বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি হারিয়ে যেতে থাকে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনো কিছু হরিণের অস্তিত্ব আছে। জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকে এসেছে বলে ধারণা বন কর্মকর্তাদের।

জানতে চাইলে উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, ১১ এপ্রিল তিনজন দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে। যতটুকু জানা গেছে, ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করে।’

Tag :
About Author Information

Mohon

মায়াবী চিত্রা হরিণটির পা চেপে ধরেছেন একজন, অন্যজন কোপাচ্ছেন দা দিয়ে

মায়াবী চিত্রা হরিণটির পা চেপে ধরেছেন একজন, অন্যজন কোপাচ্ছেন দা দিয়ে

Update Time : ১২:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জলাশয়ের কিনারে একটি মায়াবী চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে রয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্য একজন দা দিয়ে কুপিয়ে হরিণটির গলা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে এমন চিত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালি ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায়। এই এলাকার পাশেই অবস্থিত মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে হরিণ জবাইয়ের ঘটনাটি ঘটে ১১ এপ্রিল।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছয় সেকেন্ডের। হরিণ জবাইয়ের সময় কাছাকাছি স্থান থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি এ সময় অনেকটা ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন করেন, ‘ভিডিও কেন ধারণ করা হচ্ছে।’ পাল্টা জবাবে ভিডিও ধারণকারী এতে কী সমস্যা জানতে চান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে এ ঘটনার সমালোচনায় মেতে ওঠেন অনেকেই। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিও জানান তাঁরা। বন বিভাগ জানায়, আগে মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালির আশ্রয়স্থল। তবে এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড় হতে শুরু করে। এর ফলে বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি হারিয়ে যেতে থাকে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনো কিছু হরিণের অস্তিত্ব আছে। জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকে এসেছে বলে ধারণা বন কর্মকর্তাদের।

জানতে চাইলে উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, ১১ এপ্রিল তিনজন দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে। যতটুকু জানা গেছে, ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করে।’