০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শারীরিক সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে হত্যা: সাভারের সিরিয়াল কিলার সম্রাটের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

সাভারে ভবঘুরে নারীদের শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করত আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আদালতে দেওয়া সম্রাটের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে, সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত চলছে।”

পুলিশ জানায়, ‘সম্রাট’ নামে পরিচিত ব্যক্তির প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারে তিন ভাই ও চার বোন রয়েছে।

হত্যার কৌশল

তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন ভবনে নিয়ে আসত সম্রাট। পরে তারা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে ক্ষোভের বশে হত্যা করত বলে সে দাবি করেছে।

সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্ক হলে প্রথমে যুবককে হত্যা করা হয়, পরে তরুণীকেও খুন করে দুজনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তি

সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে।

পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

সম্রাট নিজেকে কখনো ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিত। তবে তার দেওয়া অধিকাংশ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “সম্রাট মানসিকভাবে বিকৃত ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির ব্যক্তি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য

স্থানীয়রা জানায়, সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে সাভার থানা এলাকা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাফেরা করত। মানুষের কাছে টাকা চাওয়া ও অশালীন আচরণ ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস।

সাত মাসে ছয় হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভারে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তার দেওয়া সব তথ্য যাচাই করে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ: তিনজনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল প্রশাসন

শারীরিক সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে হত্যা: সাভারের সিরিয়াল কিলার সম্রাটের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

Update Time : ০১:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সাভারে ভবঘুরে নারীদের শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করত আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই–বাছাই করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, আদালতে দেওয়া সম্রাটের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছে, সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত চলছে।”

পুলিশ জানায়, ‘সম্রাট’ নামে পরিচিত ব্যক্তির প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারে তিন ভাই ও চার বোন রয়েছে।

হত্যার কৌশল

তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন ভবনে নিয়ে আসত সম্রাট। পরে তারা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে ক্ষোভের বশে হত্যা করত বলে সে দাবি করেছে।

সর্বশেষ ঘটনায় তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্ক হলে প্রথমে যুবককে হত্যা করা হয়, পরে তরুণীকেও খুন করে দুজনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তি

সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্রাট ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে।

পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

সম্রাট নিজেকে কখনো ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিত। তবে তার দেওয়া অধিকাংশ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “সম্রাট মানসিকভাবে বিকৃত ও সাইকোপ্যাথ প্রকৃতির ব্যক্তি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য

স্থানীয়রা জানায়, সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে সাভার থানা এলাকা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাফেরা করত। মানুষের কাছে টাকা চাওয়া ও অশালীন আচরণ ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস।

সাত মাসে ছয় হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভারে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তার দেওয়া সব তথ্য যাচাই করে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।