দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান নদীভাঙনের কবলে পড়ে অবশেষে বিলীন হয়ে গেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফকির বাড়ি জামে মসজিদ। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় কয়েক দিনের ব্যবধানে মসজিদটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণ সাদিশ গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, শত শত বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘেরসহ অসংখ্য স্থাপনা। সর্বশেষ হারিয়ে গেল এলাকার অন্যতম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ফকির বাড়ি জামে মসজিদ।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে তারা একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীভাঙনের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে সামাজিক সংগঠন গর্বের বাকেরগঞ্জ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. বায়েজিদ আলম বলেন, “এটি শুধু প্রাকৃতিক নদীভাঙন নয়; দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করায় নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। অবৈধ মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নদীতীরে টেকসই ব্লক ও তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ না করলে দক্ষিণ সাদিশের অবশিষ্ট অংশও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের ভাষায়, “আজ মসজিদ হারিয়েছি, কাল হয়তো পুরো গ্রাম হারাতে হবে।” তাই অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোঃ এনামুল হক 













