০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর প্রকল্পে ৯০% ঋণ রাশিয়ার, ২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

আর্থিক দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা তীরবর্তী এই প্রকল্পে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ চলছে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে তা এখন প্রায় ১২ টাকা পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে পদ্মার তীরবর্তী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এরপর বিভিন্ন ধাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইউনিট পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে পারে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি লোড করার পর আমরা চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবো। এটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়।’

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই কেন্দ্র থেকে দুটি ভিভিইআর- ১২০০ রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে পারবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্মাণকালে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।

আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ওই বছরে সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রথম ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজ ইতোমধ্যে গত বছরের মে মাসে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজও চলমান রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

একসঙ্গে র‍্যালি করলেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা, বিতরণ হলো আজওয়া খেজুর-সেভেন আপ

রূপপুর প্রকল্পে ৯০% ঋণ রাশিয়ার, ২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

Update Time : ০৬:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আর্থিক দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা তীরবর্তী এই প্রকল্পে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ চলছে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া, যা বাংলাদেশকে ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে তা এখন প্রায় ১২ টাকা পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে পদ্মার তীরবর্তী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এরপর বিভিন্ন ধাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ইউনিট পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে পারে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি লোড করার পর আমরা চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবো। এটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়।’

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এই কেন্দ্র থেকে দুটি ভিভিইআর- ১২০০ রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, যা দেশের চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে পারবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্মাণকালে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।

আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ওই বছরে সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রথম ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজ ইতোমধ্যে গত বছরের মে মাসে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের সঞ্চালন লাইনের কাজও চলমান রয়েছে।