০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়ের পত্রিকায় ‘সাপুড়ে’ মোদি

নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্র আফতেনপোস্তেনে প্রকাশিত একটি রাজনৈতিক কার্টুনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কার্টুনটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সাপুড়ে হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

প্রকাশিত চিত্রে মোদিকে একটি সাপের মতো দেখতে জ্বালানি পাম্পের পাইপ হাতে দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকাশিত মতামতধর্মী লেখায় তাকে ‘চতুর এবং কিছুটা বিরক্তিকর মানুষ’ বলেও উল্লেখ করা হয়।

কার্টুনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী এটিকে বর্ণবাদী ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন বলে সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এতে ভারতকে ‘সাপ ও সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে দেখানোর পুরোনো পশ্চিমা স্টেরিওটাইপ আবার সামনে আনা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, সমালোচকেরা দাবি করছেন পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে নেতিবাচক প্রতীকে উপস্থাপন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব চিত্রায়ণ নিয়ে আপত্তি আরও জোরালো হয়েছে।

বিতর্কের পেছনে নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের সময় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে বলে জানা যায়। ওই সময় এক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনলাইনে আলোচনা শুরু হয় এবং বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক সামনে এসেছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বর্তমানে নরওয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান সাম্প্রতিক সূচকে ১৫৪ থেকে নেমে ১৫৭-এ এসেছে, যা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

দুই যুগের নদীভাঙনে অবশেষে বিলীন দক্ষিণ সাদিশের ঐতিহ্যবাহী ফকির বাড়ি জামে মসজিদ

নরওয়ের পত্রিকায় ‘সাপুড়ে’ মোদি

Update Time : ০৩:০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্র আফতেনপোস্তেনে প্রকাশিত একটি রাজনৈতিক কার্টুনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কার্টুনটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সাপুড়ে হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

প্রকাশিত চিত্রে মোদিকে একটি সাপের মতো দেখতে জ্বালানি পাম্পের পাইপ হাতে দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকাশিত মতামতধর্মী লেখায় তাকে ‘চতুর এবং কিছুটা বিরক্তিকর মানুষ’ বলেও উল্লেখ করা হয়।

কার্টুনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী এটিকে বর্ণবাদী ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন বলে সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এতে ভারতকে ‘সাপ ও সাপুড়ের দেশ’ হিসেবে দেখানোর পুরোনো পশ্চিমা স্টেরিওটাইপ আবার সামনে আনা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, সমালোচকেরা দাবি করছেন পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে নেতিবাচক প্রতীকে উপস্থাপন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব চিত্রায়ণ নিয়ে আপত্তি আরও জোরালো হয়েছে।

বিতর্কের পেছনে নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের সময় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে বলে জানা যায়। ওই সময় এক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনলাইনে আলোচনা শুরু হয় এবং বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক সামনে এসেছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বর্তমানে নরওয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান সাম্প্রতিক সূচকে ১৫৪ থেকে নেমে ১৫৭-এ এসেছে, যা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।