বাকেরগঞ্জ উপজেলা উপজেলার ৬নং ফরিদপুর ইউনিয়নের রঘুনন্দী গ্রামে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পাশের বসতঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, এম এম ব্রিক ফিল্ডের মালিক মনির মিরা রাতের আধারে বেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় নেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানক্ষেতের পাশ ঘেঁষে গভীরভাবে মাটি কাটার কারণে কয়েকটি বসতবাড়ির মেঝে ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কেটে পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদারকে অবহিত করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা যাবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশের নীতিমালা উপেক্ষা করে এম এম ব্রিক ফিল্ডে ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নদী থেকে বলগেট ও বেকুর মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করেও ভাটায় নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের মতে, বাকেরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ৬০ থেকে ৭০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে, যার অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে কয়েকটি ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেকেই কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে পরে আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে।
এদিকে পরিবেশবাদীদের প্রশ্ন, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসার নিকটবর্তী এলাকায় কীভাবে এসব ইটভাটা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালায় এমন এলাকায় ইটভাটার অনুমতি না দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
মোঃ জহিরুল ইসলাম 



















