০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন: জামায়াত–ইসলামী আন্দোলন–খেলাফত মজলিস জোট অনিশ্চয়তায়

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মূলত আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যদিও জামায়াত আজ বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ দলের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে চায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী তারা শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও আলোচনা শেষে তা কমিয়ে ৫০টির বেশি আসনে নেমে আসে। তবে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে আগ্রহী হওয়ায় দলের অনেক নেতা তা মানতে নারাজ বলে জানা গেছে।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, সমঝোতার আলোচনার মধ্যেই জামায়াত এককভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে বৈঠক করেছে, যা অন্য শরিকদের না জানিয়ে করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক এবং জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে বক্তব্যকেও দলটির ভেতরে অনেকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন।

রাত গভীর পর্যন্ত চলা শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বাদ জোহর মজলিসে আমেলার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আসন সমঝোতায় থাকা বা না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি আমির চরমোনাই পীরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

অন্যদিকে, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দর-কষাকষি করছে। দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে পারে বলে জানা গেছে। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার চিন্তাও করছে খেলাফত মজলিস। মামুনুল হক বলেন, আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে, তবে কিছু আসনে সমঝোতা না হলে সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ জানান, জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন যদি জোট থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে তারাও জোটে থাকার বিষয়টি নতুন করে ভাববে।

এদিকে জামায়াতের নেতারা শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আজ বিকেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ দলের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ও গণভোট পৃথক করার দাবিতে ইসলামী আটটি দল একসঙ্গে আন্দোলন করলেও পরে আসন সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সেই সমঝোতায় আরও কয়েকটি দল যুক্ত হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে এই আসন বণ্টন নিয়েই জোটের ঐক্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ: তিনজনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল প্রশাসন

আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন: জামায়াত–ইসলামী আন্দোলন–খেলাফত মজলিস জোট অনিশ্চয়তায়

Update Time : ০১:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মূলত আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যদিও জামায়াত আজ বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ দলের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে চায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর রামপুরার একটি মাদ্রাসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শুরা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী তারা শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও আলোচনা শেষে তা কমিয়ে ৫০টির বেশি আসনে নেমে আসে। তবে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে আগ্রহী হওয়ায় দলের অনেক নেতা তা মানতে নারাজ বলে জানা গেছে।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, সমঝোতার আলোচনার মধ্যেই জামায়াত এককভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে বৈঠক করেছে, যা অন্য শরিকদের না জানিয়ে করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক এবং জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে বক্তব্যকেও দলটির ভেতরে অনেকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন।

রাত গভীর পর্যন্ত চলা শুরা কাউন্সিলের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বাদ জোহর মজলিসে আমেলার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আসন সমঝোতায় থাকা বা না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি আমির চরমোনাই পীরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

অন্যদিকে, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দর-কষাকষি করছে। দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ২০টি আসনে ছাড় দিতে পারে বলে জানা গেছে। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার চিন্তাও করছে খেলাফত মজলিস। মামুনুল হক বলেন, আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে, তবে কিছু আসনে সমঝোতা না হলে সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ জানান, জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন যদি জোট থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে তারাও জোটে থাকার বিষয়টি নতুন করে ভাববে।

এদিকে জামায়াতের নেতারা শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আজ বিকেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১১ দলের আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ও গণভোট পৃথক করার দাবিতে ইসলামী আটটি দল একসঙ্গে আন্দোলন করলেও পরে আসন সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সেই সমঝোতায় আরও কয়েকটি দল যুক্ত হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে এই আসন বণ্টন নিয়েই জোটের ঐক্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।