রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে মোট ৪১৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে শেষ দিনের শুনানিতে প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেছেন ২০ জন প্রার্থী। তবে একই দিনে দুই বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
রবিবার নির্বাচন ভবনে টানা নয় দিনের আপিল শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, শুনানিতে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তিনি বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে আমরা কোনো পক্ষপাত করিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের শর্তও শিথিল করেছি। আমরা চাই, সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক।”
সিইসি আরও বলেন, “সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমাদের টিমের পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতমূলক রায় দেওয়া হয়নি।” এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই কিছু ঋণখেলাপি প্রার্থীকে ছাড় দিতে হয়েছে।
মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের চিত্র
এর আগে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মোট ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা পড়ে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এবং বৈধ ঘোষণা করা হয় ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র।
বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের মধ্যে প্রায় ৩৫০টি ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ২৭ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৯ জন, জাতীয় পার্টির ৫৭ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। জাতীয় পার্টির সর্বাধিক ৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় দলগতভাবে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আপিলে দুই বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
শেষ দিনের আপিল শুনানিতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর এবং কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়, সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করা হয় এবং তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। অন্যদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ ওঠে। তিনি শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে।
মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল
ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হলেও তিনি মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়ায় ইসি আপিলটি নামঞ্জুর করে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা থাকছে না।
নির্বাচনী তপশিল
ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
সব মিলিয়ে আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডেস্ক রিপোর্টঃ 


















