০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” গড়তে নীতিগত রূপরেখা দিল জামায়াতে ইসলামী

‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি তাদের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করাই এই রূপরেখার মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের জন্য নতুন শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়—বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। শিক্ষিত তরুণেরা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না, নারীরা কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, আর কঠোর পরিশ্রম করেও সাধারণ মানুষ সামান্য সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “শুধু প্রবৃদ্ধির হার সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন মানুষ মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিক দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু পরিবারের সহায়তা নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও বড় উৎস। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরাও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি শুধু বিনিয়োগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়—এটিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শ্রমখাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায়ের দাবি নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও বটে। জনসংখ্যার অর্ধেককে বাদ দিয়ে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নযাত্রার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পলিসি সামিটে উপস্থাপিত এই রূপরেখার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সংগঠনকে ত্বরান্বিত করতে ৮ নং নলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

“নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” গড়তে নীতিগত রূপরেখা দিল জামায়াতে ইসলামী

Update Time : ০২:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি তাদের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করাই এই রূপরেখার মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের জন্য নতুন শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়—বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। শিক্ষিত তরুণেরা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না, নারীরা কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, আর কঠোর পরিশ্রম করেও সাধারণ মানুষ সামান্য সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “শুধু প্রবৃদ্ধির হার সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন মানুষ মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিক দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু পরিবারের সহায়তা নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও বড় উৎস। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরাও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি শুধু বিনিয়োগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়—এটিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শ্রমখাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায়ের দাবি নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও বটে। জনসংখ্যার অর্ধেককে বাদ দিয়ে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নযাত্রার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পলিসি সামিটে উপস্থাপিত এই রূপরেখার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।