০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে নাভিশ্বাস নগরবাসীর, দ্বিগুণ দামে মিলছে না সিলিন্ডার

বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ–সংকট তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস সংকট। বাসার চুলায় গ্যাস না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছেন, কিন্তু সেখানেও মিলছে না স্বস্তি।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

শহরের বেশিরভাগ মানুষ রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি—দুই ধরনের জ্বালানিই ব্যবহার করেন। বর্তমানে দুই ক্ষেত্রেই সংকট থাকায় রান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কেউ কেউ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ–চালিত চুলা কিনছেন। এতে এসব চুলার দামও বেড়েছে বাজারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই গ্যাস–সংকটের ভোগান্তির কথা লিখছেন গ্রাহকেরা।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত ফেসবুক গ্রুপ ‘আমরা মোহাম্মদপুরবাসী’–তে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস–সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার গ্রুপে রবিন হাসান লেখেন, ‘মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা গ্যাস বিল দিয়ে আবার আড়াই হাজার টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হলো। কষ্ট দেখার কেউ নেই!’

একই এলাকার গৃহিণী শায়লা শারমীন জানান, তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার টাকায়। শারমীন আক্তার বলেন, একই পরিমাণ সিলিন্ডারের জন্য তাকে গুনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর শামীমা সুলতানা দাবি করেন, তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।

দেশে এলপিজির গ্রাহক এক কোটির বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে এলপিজির ঘাটতি এড়াতে গত সপ্তাহে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশনা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ১২টি এলপিজি কোম্পানি বাড়তি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশে মাসিক গড় চাহিদা ১ লাখ ৫০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টন। জানুয়ারিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১০০ টন এলপিজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে।

তবে জানুয়ারির শেষ ভাগেও বাজারে এলপিজির সরবরাহ বাড়েনি। রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা রওনক জাহান বলেন, মাসের শুরুতেই এলপিজি শেষ হয়ে গেছে। এখন বিদ্যুৎ–চালিত চুলায় রান্না করছেন। এতে সময় বেশি লাগে। এলপিজি সিলিন্ডার খুঁজে পাচ্ছেন না। পেলেও দাম চাইছে ২ হাজার ২০০ টাকা। তাই তিনি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা সুরাইয়া সেঁজুতি জানান, দুপুরে রান্নার মাঝখানে হঠাৎ এলপিজি শেষ হয়ে যায়। পাড়ার দোকানে সিলিন্ডার না পেয়ে রিকশায় আশপাশের এলাকায় ঘুরে একটি দোকানে পাওয়া যায়। সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২৫০ টাকা, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা।

এলপিজি আমদানিকারকেরা বলছেন, শীত মৌসুমে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চাইলেও পর্যাপ্ত এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও পরিবহনের জন্য জাহাজ সংকট রয়েছে। নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)ও আমদানির চেষ্টা করছে। আমদানি বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাসের গ্রাহক সংখ্যা ২৭ লাখ ৭৮ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২৭ লাখ ৫৮ হাজার।

তিতাস সূত্র জানায়, প্রতিদিন তাদের গ্যাসের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। গতকাল তা আরও কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এতে ঢাকার অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিছুদিন ধরে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে আসছিল প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় গতকাল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এতে এলএনজি থেকে সরবরাহ নেমে আসে ৫৮ কোটি ঘনফুটে। রাত পৌনে আটটার দিকে সরবরাহ পুনরায় চালু হলেও স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাসের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

শিক্ষার্থীদের সমকামিতায় প্রলুব্ধ করার অভিযোগে চিফ ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে নাভিশ্বাস নগরবাসীর, দ্বিগুণ দামে মিলছে না সিলিন্ডার

Update Time : ১০:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ–সংকট তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে পাইপলাইনের গ্যাস সংকট। বাসার চুলায় গ্যাস না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছেন, কিন্তু সেখানেও মিলছে না স্বস্তি।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

শহরের বেশিরভাগ মানুষ রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি—দুই ধরনের জ্বালানিই ব্যবহার করেন। বর্তমানে দুই ক্ষেত্রেই সংকট থাকায় রান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কেউ কেউ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ–চালিত চুলা কিনছেন। এতে এসব চুলার দামও বেড়েছে বাজারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই গ্যাস–সংকটের ভোগান্তির কথা লিখছেন গ্রাহকেরা।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত ফেসবুক গ্রুপ ‘আমরা মোহাম্মদপুরবাসী’–তে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস–সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার গ্রুপে রবিন হাসান লেখেন, ‘মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা গ্যাস বিল দিয়ে আবার আড়াই হাজার টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হলো। কষ্ট দেখার কেউ নেই!’

একই এলাকার গৃহিণী শায়লা শারমীন জানান, তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার টাকায়। শারমীন আক্তার বলেন, একই পরিমাণ সিলিন্ডারের জন্য তাকে গুনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর শামীমা সুলতানা দাবি করেন, তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।

দেশে এলপিজির গ্রাহক এক কোটির বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে এলপিজির ঘাটতি এড়াতে গত সপ্তাহে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশনা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ১২টি এলপিজি কোম্পানি বাড়তি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশে মাসিক গড় চাহিদা ১ লাখ ৫০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টন। জানুয়ারিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১০০ টন এলপিজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে।

তবে জানুয়ারির শেষ ভাগেও বাজারে এলপিজির সরবরাহ বাড়েনি। রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা রওনক জাহান বলেন, মাসের শুরুতেই এলপিজি শেষ হয়ে গেছে। এখন বিদ্যুৎ–চালিত চুলায় রান্না করছেন। এতে সময় বেশি লাগে। এলপিজি সিলিন্ডার খুঁজে পাচ্ছেন না। পেলেও দাম চাইছে ২ হাজার ২০০ টাকা। তাই তিনি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা সুরাইয়া সেঁজুতি জানান, দুপুরে রান্নার মাঝখানে হঠাৎ এলপিজি শেষ হয়ে যায়। পাড়ার দোকানে সিলিন্ডার না পেয়ে রিকশায় আশপাশের এলাকায় ঘুরে একটি দোকানে পাওয়া যায়। সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২৫০ টাকা, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা।

এলপিজি আমদানিকারকেরা বলছেন, শীত মৌসুমে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চাইলেও পর্যাপ্ত এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও পরিবহনের জন্য জাহাজ সংকট রয়েছে। নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)ও আমদানির চেষ্টা করছে। আমদানি বাড়ানো গেলে বাজারে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাসের গ্রাহক সংখ্যা ২৭ লাখ ৭৮ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২৭ লাখ ৫৮ হাজার।

তিতাস সূত্র জানায়, প্রতিদিন তাদের গ্যাসের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। গতকাল তা আরও কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এতে ঢাকার অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিছুদিন ধরে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে আসছিল প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় গতকাল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এতে এলএনজি থেকে সরবরাহ নেমে আসে ৫৮ কোটি ঘনফুটে। রাত পৌনে আটটার দিকে সরবরাহ পুনরায় চালু হলেও স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাসের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাবে।