০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রীকে বাঁচাতে চোর ধরলেন, তবু চাকরি গেল: লন্ডনের বাসচালককে ঘিরে বিতর্ক

এক নারী যাত্রীর গলার হার ছিনতাই থেকে বাঁচাতে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হয়েছে লন্ডনের এক বাসচালককে। তাৎক্ষণিকভাবে চোরকে ধাওয়া করে ধরে ফেলার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ালেও কোম্পানির শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া চালকের নাম মার্ক হিহির (Mark Hehir)। ২০২৪ সালের জুন মাসে তিনি ওয়েম্বলি থেকে মেইডা ভেলগামী ২০৬ নম্বর বাস চালাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি বাসে উঠে এক নারী যাত্রীর গলা থেকে হার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝে হিহির বাস থেকে নেমে চোরের পিছু নেন এবং তাকে ধরে ফেলেন। পরে উদ্ধার করা হারটি ওই যাত্রীর কাছে ফিরিয়ে দেন।

তবে চোরকে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসটি ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রেখে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। দুই বছর ধরে মেট্রোলাইন (Metroline) কোম্পানিতে কর্মরত এই চালককে সাময়িক বরখাস্ত করে শাস্তিমূলক শুনানিতে হাজির করা হয়। কোম্পানির অভিযোগ, তিনি এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে আঘাত করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন এবং বাসের যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে হিহির অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে ফুটপাতে নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় ব্যক্তিকে আটক করলেও পরে হিহিরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় হিহির যে শক্তি প্রয়োগ করেছেন তা ছিল “প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত” এবং তা তিনি নিজে ও নারী যাত্রীর আত্মরক্ষার জন্যই করেছেন।

শুনানিতে হিহির বলেন, তিনি “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়” চোরের পিছু নিয়েছিলেন এবং বাসের দরজা খোলা ও হ্যান্ডব্রেক টানা ছিল। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসে ফিরে আসার আশঙ্কায় নারী যাত্রীটি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন যাত্রীকে রক্ষা করার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেওয়াই কি শেষ পর্যন্ত একজন চালকের চাকরি হারানোর কারণ হওয়া উচিত?

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

যাত্রীকে বাঁচাতে চোর ধরলেন, তবু চাকরি গেল: লন্ডনের বাসচালককে ঘিরে বিতর্ক

Update Time : ০৩:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক নারী যাত্রীর গলার হার ছিনতাই থেকে বাঁচাতে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হয়েছে লন্ডনের এক বাসচালককে। তাৎক্ষণিকভাবে চোরকে ধাওয়া করে ধরে ফেলার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ালেও কোম্পানির শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া চালকের নাম মার্ক হিহির (Mark Hehir)। ২০২৪ সালের জুন মাসে তিনি ওয়েম্বলি থেকে মেইডা ভেলগামী ২০৬ নম্বর বাস চালাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি বাসে উঠে এক নারী যাত্রীর গলা থেকে হার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝে হিহির বাস থেকে নেমে চোরের পিছু নেন এবং তাকে ধরে ফেলেন। পরে উদ্ধার করা হারটি ওই যাত্রীর কাছে ফিরিয়ে দেন।

তবে চোরকে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসটি ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রেখে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। দুই বছর ধরে মেট্রোলাইন (Metroline) কোম্পানিতে কর্মরত এই চালককে সাময়িক বরখাস্ত করে শাস্তিমূলক শুনানিতে হাজির করা হয়। কোম্পানির অভিযোগ, তিনি এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে আঘাত করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন এবং বাসের যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে হিহির অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে ফুটপাতে নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় ব্যক্তিকে আটক করলেও পরে হিহিরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় হিহির যে শক্তি প্রয়োগ করেছেন তা ছিল “প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত” এবং তা তিনি নিজে ও নারী যাত্রীর আত্মরক্ষার জন্যই করেছেন।

শুনানিতে হিহির বলেন, তিনি “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়” চোরের পিছু নিয়েছিলেন এবং বাসের দরজা খোলা ও হ্যান্ডব্রেক টানা ছিল। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসে ফিরে আসার আশঙ্কায় নারী যাত্রীটি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন যাত্রীকে রক্ষা করার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেওয়াই কি শেষ পর্যন্ত একজন চালকের চাকরি হারানোর কারণ হওয়া উচিত?