১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা অযৌক্তিক- সমান সুযোগ ও চাপমুক্ত শৈশব নিশ্চিত করতে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

শিক্ষা একটি শিশুর বিকাশের প্রথম ধাপ, যেখানে থাকা উচিত আনন্দ, কৌতূহল ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পরিবেশ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের এই স্বাভাবিক যাত্রার শুরুতেই যুক্ত হচ্ছে কঠিন প্রতিযোগিতা ও ভর্তি পরীক্ষার চাপ। অল্প বয়সেই একটি শিশুকে পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করানো তার মানসিক বিকাশের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এখন সময়ের দাবি।

শিশুরা জন্মগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন গুণ ও সক্ষমতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ ধীরে- এটাই স্বাভাবিক। অথচ একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা যাচাই করার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই অবিচার তৈরি করে। এতে করে শিশুর স্বাভাবিক প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, আর শৈশব হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতা ও ভয়ভীতির এক চাপা অধ্যায়।

ভর্তি পরীক্ষার আরেকটি বড় নেতিবাচক দিক হলো এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কোচিং সংস্কৃতি। অল্প বয়স থেকেই অনেক শিশুকে কোচিংয়ের উপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়, যেখানে শেখার আনন্দের চেয়ে মুখস্থবিদ্যা বেশি গুরুত্ব পায়। এর ফলে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা বাড়তি সুবিধা পায়, আর সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পিছিয়ে পড়ে- যা শিক্ষার সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই বাস্তবতায় লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা একটি মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। লটারির মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করা হলে প্রতিটি শিশুই সমান সুযোগ পায়, কারও ওপর অযথা চাপ পড়ে না। এতে শিশুদের শৈশব থাকে আনন্দময় ও চাপমুক্ত, এবং অভিভাবকদের মধ্যেও অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা ও উদ্বেগ কমে যায়।

অবশ্যই, লটারি পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করে এর স্বচ্ছতা ও সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান সমানভাবে উন্নত করা গেলে “ভালো স্কুলে ভর্তির লড়াই” অনেকটাই কমে আসবে।

সবশেষে বলা যায়, একটি শিশুর জীবনের শুরু হওয়া উচিত নয় প্রতিযোগিতার বোঝা দিয়ে, বরং আনন্দময় শেখার পরিবেশ দিয়ে। তাই শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করাই হতে পারে একটি সময়োপযোগী, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত।

Tag :
About Author Information

Mohon

আমরা বাংলায় কাউকে বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না: অমিত শাহ

শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা অযৌক্তিক- সমান সুযোগ ও চাপমুক্ত শৈশব নিশ্চিত করতে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

Update Time : ১১:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

শিক্ষা একটি শিশুর বিকাশের প্রথম ধাপ, যেখানে থাকা উচিত আনন্দ, কৌতূহল ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পরিবেশ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের এই স্বাভাবিক যাত্রার শুরুতেই যুক্ত হচ্ছে কঠিন প্রতিযোগিতা ও ভর্তি পরীক্ষার চাপ। অল্প বয়সেই একটি শিশুকে পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করানো তার মানসিক বিকাশের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এখন সময়ের দাবি।

শিশুরা জন্মগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন গুণ ও সক্ষমতা নিয়ে বেড়ে ওঠে। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ ধীরে- এটাই স্বাভাবিক। অথচ একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তাদের যোগ্যতা যাচাই করার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই অবিচার তৈরি করে। এতে করে শিশুর স্বাভাবিক প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, আর শৈশব হয়ে ওঠে প্রতিযোগিতা ও ভয়ভীতির এক চাপা অধ্যায়।

ভর্তি পরীক্ষার আরেকটি বড় নেতিবাচক দিক হলো এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কোচিং সংস্কৃতি। অল্প বয়স থেকেই অনেক শিশুকে কোচিংয়ের উপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়, যেখানে শেখার আনন্দের চেয়ে মুখস্থবিদ্যা বেশি গুরুত্ব পায়। এর ফলে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা বাড়তি সুবিধা পায়, আর সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পিছিয়ে পড়ে- যা শিক্ষার সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই বাস্তবতায় লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা একটি মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। লটারির মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করা হলে প্রতিটি শিশুই সমান সুযোগ পায়, কারও ওপর অযথা চাপ পড়ে না। এতে শিশুদের শৈশব থাকে আনন্দময় ও চাপমুক্ত, এবং অভিভাবকদের মধ্যেও অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা ও উদ্বেগ কমে যায়।

অবশ্যই, লটারি পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করে এর স্বচ্ছতা ও সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান সমানভাবে উন্নত করা গেলে “ভালো স্কুলে ভর্তির লড়াই” অনেকটাই কমে আসবে।

সবশেষে বলা যায়, একটি শিশুর জীবনের শুরু হওয়া উচিত নয় প্রতিযোগিতার বোঝা দিয়ে, বরং আনন্দময় শেখার পরিবেশ দিয়ে। তাই শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করাই হতে পারে একটি সময়োপযোগী, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত।