১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জ মহিলা কলেজের নাম পুনর্বহালের দাবি জোরালো, অডিট নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

বাকেরগঞ্জের পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার উন্নয়নের মহৎ লক্ষ্য নিয়ে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, মরহুম অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস খান ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “বাকেরগঞ্জ মহিলা কলেজ”। তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগ এ অঞ্চলে নারীশিক্ষা বিস্তারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির রত্না আমিন এমপি হওয়ার পর নিজের প্রভাব খাটিয়ে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে নামকরণ করা হয়। এতে করে প্রতিষ্ঠাতার অবদান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আড়ালে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ প্রেক্ষিতে কলেজটির পূর্বের নাম “বাকেরগঞ্জ মহিলা কলেজ” পুনর্বহালের দাবি জোরালোভাবে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলে তা নিজের নামে নামকরণ করা যেতে পারে, কিন্তু পূর্ব প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে অন্যের নামে করা ন্যায়সংগত নয়।

এ বিষয়ে সামাজিক সংগঠন “গর্বের বাকেরগঞ্জ”-এর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মোহন বলেন, “প্রতিষ্ঠাতার অবদানকে সম্মান জানাতে এবং ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে কলেজটির পূর্বের নাম অবিলম্বে পুনর্বহাল করা উচিত। এটি শুধু একটি নামের বিষয় নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও ন্যায্যতার প্রশ্ন।”

এছাড়াও, কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অডিট সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, ইতিহাস, ন্যায্যতা ও শিক্ষার স্বার্থ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Tag :
About Author Information

Mohon

আমরা বাংলায় কাউকে বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না: অমিত শাহ

বাকেরগঞ্জ মহিলা কলেজের নাম পুনর্বহালের দাবি জোরালো, অডিট নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

Update Time : ০৭:১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বাকেরগঞ্জের পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার উন্নয়নের মহৎ লক্ষ্য নিয়ে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, মরহুম অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস খান ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “বাকেরগঞ্জ মহিলা কলেজ”। তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগ এ অঞ্চলে নারীশিক্ষা বিস্তারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির রত্না আমিন এমপি হওয়ার পর নিজের প্রভাব খাটিয়ে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে নামকরণ করা হয়। এতে করে প্রতিষ্ঠাতার অবদান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আড়ালে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ প্রেক্ষিতে কলেজটির পূর্বের নাম “বাকেরগঞ্জ মহিলা কলেজ” পুনর্বহালের দাবি জোরালোভাবে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করলে তা নিজের নামে নামকরণ করা যেতে পারে, কিন্তু পূর্ব প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে অন্যের নামে করা ন্যায়সংগত নয়।

এ বিষয়ে সামাজিক সংগঠন “গর্বের বাকেরগঞ্জ”-এর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মোহন বলেন, “প্রতিষ্ঠাতার অবদানকে সম্মান জানাতে এবং ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে কলেজটির পূর্বের নাম অবিলম্বে পুনর্বহাল করা উচিত। এটি শুধু একটি নামের বিষয় নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও ন্যায্যতার প্রশ্ন।”

এছাড়াও, কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অডিট সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, ইতিহাস, ন্যায্যতা ও শিক্ষার স্বার্থ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।