১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেলমেট পরে ক্লাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার এক দিন পর নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে হেলমেট পরে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী।

গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নাঈম ও মাহমুদুল হাসান আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেলের হেলমেট পরে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সকালে ক্লাস শুরুর আগে দুজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রেণিকক্ষে আসেন। প্রথমে বিষয়টি অনেকেই মজা হিসেবে নিলেও পরে জানা যায়, এটি মূলত নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে একধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, ‘গতকাল ছাদের পলেস্তারা পড়ে সহপাঠীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ আমি ক্লাসে বসে নিরাপদ বোধ করছি না। নিজের নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরেছি, একই সঙ্গে এটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি চেষ্টা।’ এর দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আতঙ্ক আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাঈম ও মাহমুদুলের সহপাঠী তানজিম আহমেদ মিথিল বলেন, ‘এটি হাস্যকর নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন। আমরা সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবেন। গণিত বিভাগের ১১৯, ১২০ ও ১২১ নম্বর কক্ষ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাই মিড ও শ্রেণি পরীক্ষা এখানে চলছে।

অধ্যাপক মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি যে রুমে বসে আছি, সেটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, দায়িত্ববোধ থেকে এখনো অবস্থান করছি।’

গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনারকক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও প্রশাসনিক অবহেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ রুমগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। সংস্কার দ্রুত কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

তবে শিক্ষার্থীরা বলেন, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের উদ্বেগ কমবে না।

Tag :
About Author Information

Mohon

মায়াবী চিত্রা হরিণটির পা চেপে ধরেছেন একজন, অন্যজন কোপাচ্ছেন দা দিয়ে

হেলমেট পরে ক্লাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

Update Time : ০৪:২১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার এক দিন পর নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে হেলমেট পরে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী।

গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নাঈম ও মাহমুদুল হাসান আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেলের হেলমেট পরে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সকালে ক্লাস শুরুর আগে দুজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলের হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রেণিকক্ষে আসেন। প্রথমে বিষয়টি অনেকেই মজা হিসেবে নিলেও পরে জানা যায়, এটি মূলত নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে একধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, ‘গতকাল ছাদের পলেস্তারা পড়ে সহপাঠীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ আমি ক্লাসে বসে নিরাপদ বোধ করছি না। নিজের নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরেছি, একই সঙ্গে এটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি চেষ্টা।’ এর দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আতঙ্ক আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাঈম ও মাহমুদুলের সহপাঠী তানজিম আহমেদ মিথিল বলেন, ‘এটি হাস্যকর নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন। আমরা সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবেন। গণিত বিভাগের ১১৯, ১২০ ও ১২১ নম্বর কক্ষ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাই মিড ও শ্রেণি পরীক্ষা এখানে চলছে।

অধ্যাপক মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি যে রুমে বসে আছি, সেটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, দায়িত্ববোধ থেকে এখনো অবস্থান করছি।’

গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনারকক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও প্রশাসনিক অবহেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ রুমগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। সংস্কার দ্রুত কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

তবে শিক্ষার্থীরা বলেন, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের উদ্বেগ কমবে না।