বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান এ প্রকল্পে নির্ধারিত সময়সীমা শেষের পথে হলেও এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প হিসেবে “বাকেরগঞ্জ-গোবিন্দপুর হাট ভায়া রবিপুর, শিয়ালঘুনি, কাকরধা, ভাতশালা ও কালিশুরি” পর্যন্ত প্রায় ১০,১৬০ মিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩ টাকা এবং কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ইফতি-ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড ও মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (জেভি)। স্থানীয়ভাবে কাজটি শুরু করেন প্রভাবশালী ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা নাসির মাঝি। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেলে মূল ঠিকাদার আমির কনস্ট্রাকশনের মালিক আমির খান কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও খামখেয়ালিপনার কারণে কাজের অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত ধীর। গত দুই বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের নামে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় পুরো এলাকায় ধুলাবালুর প্রকোপ বেড়েছে, পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। ফলে সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সামনে বর্ষা মৌসুম আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহম্মেদ বলেন, “ঠিকাদার আমির খানকে বারবার চাপ প্রয়োগ করা হলেও আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত চাপ দিচ্ছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঠিকাদার আমির খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কটির কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্টাফ রিপোর্টার 






















