কুরবানীর গরুর শিকলের তালা কেনা আর হলো না আবুল হোসেন খানের (৬৫)। জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে তিনি পাড়ি জমালেন অনন্ত অসীমের পথে- যে পথে গেলে আর কেউ ফিরে আসে না।
বাকেরগঞ্জ দর্পণের পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন প্রতিনিধি মোঃ সাব্বির হোসেনের শ্বশুর আবুল হোসেন খান গত ২৭ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাদ্রীশিবপুর কানকী বাজার এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় একটি সিএনজির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে বরিশালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে ২৮ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
নিয়তির নির্মম পরিহাস- কুরবানীর ঈদের জামায়াত যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কুরবানিও সম্পন্ন হয়েছে, মাংস বণ্টনও হয়েছে সুষ্ঠুভাবে। কিন্তু যে মানুষটি ঈদের আনন্দে সবার মাঝে থাকার কথা ছিল, তার অনুপস্থিতিতে হাসির বদলে চারদিকে নেমে এসেছে কান্নার মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ, শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রামবাসী।
আবুল হোসেন খান ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, সদাহাস্যোজ্জ্বল ও মিশুক স্বভাবের একজন মানুষ। পরিচিত কাউকে দেখলেই দূর থেকে হাসিমুখে ডাক দিতেন, আপন করে কথা বলতেন সবার সঙ্গে। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় একজন ব্যক্তি। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নয়, বরং সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন নিজের আন্তরিকতা আর মানবিক আচরণ দিয়ে।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন, গর্বের বাকেরগঞ্জবাসী এবং “বাকেরগঞ্জ দর্পণ” পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা।
মোঃ ইমরান হোসেন কামাল 


















