০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে এনসিপি নেতাকে গণপিটুনি, পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ

প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

শনিবার (৩০ মে) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রবিবার (৩১ মে) দুপুরে সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে রুহুল আমিন (৪৯) বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেনসহ চারজনকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আনোয়ার হোসেন (৩৮) রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নিজেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় ক্ষুব্ধ জনতা আনোয়ার হোসেনকে আটক করে মারধর করে। এ সময় আহত অবস্থায় আনোয়ার দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনোয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “খবর পেয়ে আমরা আনোয়ার হোসেনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল। মামলা রেকর্ড শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সংগঠনকে ত্বরান্বিত করতে ৮ নং নলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে এনসিপি নেতাকে গণপিটুনি, পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ

Update Time : ০৫:০৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

শনিবার (৩০ মে) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রবিবার (৩১ মে) দুপুরে সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে রুহুল আমিন (৪৯) বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেনসহ চারজনকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আনোয়ার হোসেন (৩৮) রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নিজেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় ক্ষুব্ধ জনতা আনোয়ার হোসেনকে আটক করে মারধর করে। এ সময় আহত অবস্থায় আনোয়ার দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনোয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, “খবর পেয়ে আমরা আনোয়ার হোসেনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল। মামলা রেকর্ড শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”