বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ছয়টি রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বাস মালিক, শ্রমিক ও থ্রি-হুইলার চালকদের মধ্যে বিরোধের জেরে সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়েছে। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, সড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল এবং মূল সড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামাকে কেন্দ্র করে চরকাউয়া বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিক ও থ্রি-হুইলার চালকদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে বাস মালিক ও শ্রমিকরা ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
বন্ধ থাকা রুটগুলো হলো- ডিসি রোড, লক্ষ্মীপাশা, লাহারহাট, কাটাদিয়া, হলতা, নেহালগঞ্জ ও সিদ্দিক বাজার। এসব রুটে প্রায় ৭০টি বাসের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সোমবার রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে জরুরি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশার অবস্থান এবং যাত্রী ওঠানামার বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশাগুলো বাসস্ট্যান্ড থেকে অন্তত ৩০০ ফুট দূরে অবস্থান করবে এবং লিংক রোডের মুখে যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে। তবে কোনোভাবেই মূল সড়কে অবস্থান করা বা সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। প্রশাসনের এ নির্দেশনার পর বাস মালিক সমিতি ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সভাপতি জানান, প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা পুনরায় বাস চলাচল শুরু করেছেন। যাত্রীরা যাতে আর ভোগান্তিতে না পড়েন, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।
দীর্ঘ বিরোধ ও সাময়িক অচলাবস্থার পর বাস চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের মধ্যে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সড়কে শৃঙ্খলা ও সমঝোতার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোঃ আরিফুর রহমান সোহাগ 

















