০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে গাছতলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধের আশ্রয়!

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লার। দুই ছেলে ও চার মেয়ে—ছয় সন্তানের কেউই তাঁর দায়িত্ব নিতে রাজি নন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন এই বৃদ্ধ। সেখানেই কাটছে তাঁর অসহায় দিন।

হাজী শামসুল হক মোল্লা উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর দুই ছেলে আজিজুল মোল্লা ও রেয়াজুল মোল্লা এবং চার মেয়ে মায়া, সাবিনা, সালমা ও কাজুলী বেগম। বড় ছেলে আজিজুল পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে পবিত্র হজ পালন করেন শামসুল হক। এ সময় অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি নন তাঁর সন্তানেরা। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাঁকে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে রেখে আসা হয়।

জীবনের শেষ বয়সে সন্তানদের স্নেহ, যত্ন ও নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার কথা যে মানুষের, সেই বয়সে এসে গাছতলায় ঠাঁই হয়েছে হাজী শামসুল হক মোল্লার। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃদ্ধ বাবার এমন অসহায় অবস্থার ঘটনায় স্থানীয়দের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে গাছতলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধের আশ্রয়!

জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে গাছতলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধের আশ্রয়!

Update Time : ০৭:১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লার। দুই ছেলে ও চার মেয়ে—ছয় সন্তানের কেউই তাঁর দায়িত্ব নিতে রাজি নন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন এই বৃদ্ধ। সেখানেই কাটছে তাঁর অসহায় দিন।

হাজী শামসুল হক মোল্লা উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর দুই ছেলে আজিজুল মোল্লা ও রেয়াজুল মোল্লা এবং চার মেয়ে মায়া, সাবিনা, সালমা ও কাজুলী বেগম। বড় ছেলে আজিজুল পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে পবিত্র হজ পালন করেন শামসুল হক। এ সময় অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তবে বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি নন তাঁর সন্তানেরা। ছোট মেয়ে কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তান নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত কয়েক দিন বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। মঙ্গলবার সকালে মায়া তাঁকে দুই ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে তাঁকে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে রেখে আসা হয়।

জীবনের শেষ বয়সে সন্তানদের স্নেহ, যত্ন ও নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার কথা যে মানুষের, সেই বয়সে এসে গাছতলায় ঠাঁই হয়েছে হাজী শামসুল হক মোল্লার। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃদ্ধ বাবার এমন অসহায় অবস্থার ঘটনায় স্থানীয়দের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।