০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সেই কবিরাজ আটক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের নামে এক কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে আলোচিত কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চায়না গার্ডেনের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এসআরবি-৮-এর পটুয়াখালী সদস্যদের একটি দল। পরে সন্ধ্যায় তাঁকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এ ঘটনায় কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আটক মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদিনাবাগ এলাকায় আবদুল ওয়াদুদের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। কিশোরী রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে কিশোরী সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় বসবাস করছে। রিয়াজও মাঝেমধ্যে ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।

এজাহারে বলা হয়, কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিচিত অসীম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসার নামে নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন মুসা। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তিনি। পরে এসব ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

একপর্যায়ে কিশোরী ও তাঁর মা মুসা এবং অসীমকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বাড়িতে গিয়ে কিশোরী ও তাঁর মাকে বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি দেন আসামিরা। অন্যথায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এসআরবি-৮-এর পটুয়াখালী সদস্যরা কবিরাজ মুসাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে গাছতলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধের আশ্রয়!

ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, সেই কবিরাজ আটক

Update Time : ১১:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁকের নামে এক কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে আলোচিত কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চায়না গার্ডেনের সামনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এসআরবি-৮-এর পটুয়াখালী সদস্যদের একটি দল। পরে সন্ধ্যায় তাঁকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এ ঘটনায় কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আটক মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদিনাবাগ এলাকায় আবদুল ওয়াদুদের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। কিশোরী রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে কিশোরী সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় বসবাস করছে। রিয়াজও মাঝেমধ্যে ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।

এজাহারে বলা হয়, কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিচিত অসীম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসার নামে নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন মুসা। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তিনি। পরে এসব ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

একপর্যায়ে কিশোরী ও তাঁর মা মুসা এবং অসীমকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করে কিশোরীর বাড়িতে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বাড়িতে গিয়ে কিশোরী ও তাঁর মাকে বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি দেন আসামিরা। অন্যথায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এসআরবি-৮-এর পটুয়াখালী সদস্যরা কবিরাজ মুসাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।