০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের নামে ভোগান্তি, ধুলার রাজ্যে পরিণত বাকেরগঞ্জের ডিসি রোড-পেয়ারপুর-গারুড়িয়া সড়ক

বাকেরগঞ্জে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিসি রোড-পেয়ারপুর-গারুড়িয়া সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হলেও প্রায় এক বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ধুলাবালু। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়ক ব্যবহারকারী ১০টি ইউনিয়নের মানুষ। যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে মাটি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার কুণ্ডলী। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এসব ধুলাবালু প্রবেশ করছে আশপাশের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ধুলাবালুর মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া-আসা হয়ে উঠেছে আরও কষ্টকর। ধুলাবালুর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অন্যদিকে, সড়কের অসমাপ্ত ও বেহাল অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়ছে যানবাহন মেরামতের খরচ ও যাতায়াতের সময়। বিশেষ করে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী পরিবহনচালকদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

প্রায় এক বছর ধরে উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রায় ২১ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে থাকার কারণ কী? কবে নাগাদ পুনরায় কাজ শুরু হবে এবং কখনই বা শেষ হবে—তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, ডিসি রোড-পেয়ারপুর-গারুড়িয়া সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; আশপাশের ১০টি ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কটির উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ বন্ধ থাকার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাঁদের মুক্তি দেবে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে আবুল হোসেন খান কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

উন্নয়নের নামে ভোগান্তি, ধুলার রাজ্যে পরিণত বাকেরগঞ্জের ডিসি রোড-পেয়ারপুর-গারুড়িয়া সড়ক

Update Time : ০৭:১৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাকেরগঞ্জে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিসি রোড-পেয়ারপুর-গারুড়িয়া সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হলেও প্রায় এক বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ধুলাবালু। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়ক ব্যবহারকারী ১০টি ইউনিয়নের মানুষ। যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে মাটি ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার কুণ্ডলী। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এসব ধুলাবালু প্রবেশ করছে আশপাশের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ধুলাবালুর মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া-আসা হয়ে উঠেছে আরও কষ্টকর। ধুলাবালুর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অন্যদিকে, সড়কের অসমাপ্ত ও বেহাল অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়ছে যানবাহন মেরামতের খরচ ও যাতায়াতের সময়। বিশেষ করে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী পরিবহনচালকদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

প্রায় এক বছর ধরে উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, প্রায় ২১ কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে থাকার কারণ কী? কবে নাগাদ পুনরায় কাজ শুরু হবে এবং কখনই বা শেষ হবে—তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, ডিসি রোড-পেয়ারপুর-গারুড়িয়া সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; আশপাশের ১০টি ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কটির উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ বন্ধ থাকার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাঁদের মুক্তি দেবে।