বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিয়ালগুনি গ্রামের নিভৃত পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনা—নসরত গাজী মসজিদ। এক-গম্বুজ বিশিষ্ট এই প্রাচীন মসজিদ কেবল ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয়, বরং বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।
নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৬শ শতকে বাংলার সুলতান নাসিরউদ্দিন নসরত শাহ-এর শাসনামলে (১৫১৯–১৫৩৩ খ্রি.) মসজিদটি নির্মিত হয়। অনেকে মনে করেন, এটি বিশেষভাবে ১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দের নির্মাণকর্ম। হোসেন শাহী আমলের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণে গড়ে ওঠা এই মসজিদ আজও সেই ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, সুফিসাধক নসরত গাজী এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ বলে ধারণা করা হয়।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে অনন্যতা:
বর্গাকার পরিকল্পনায় নির্মিত এই এক-গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের দেয়াল প্রায় ৪.৭ ফুট পুরু, যা চুন-সুরকি, পাতলা ইট ও মজবুত নির্মাণকৌশলের প্রমাণ বহন করে।
গম্বুজ ও মিনার: মসজিদের উপর একটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকার মিনার বা স্তম্ভ রয়েছে।
প্রবেশপথ: পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার, যা সুলতানি স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
মিহরাব: পশ্চিম দেয়ালে একটি প্রধান মিহরাব অবস্থিত।
অলংকরণ: পোড়ামাটির নকশা ও অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্পরীতির পরিচয় দেয়।
মসজিদের অভ্যন্তরে গরমের দিনেও শীতল অনুভূতি পাওয়া যায়, যা প্রাচীন নির্মাণকৌশলের এক বিস্ময়কর দিক।
সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা:
ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর-এর অধীনে সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত। পুরনো মসজিদের পাশেই গড়ে উঠেছে একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, যেখানে স্থানীয় মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।
অবস্থান:
মসজিদটি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে শিয়ালগুনি গ্রামের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আগমন ঘটে।
মোঃ রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) 




















