বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৪নং দুধল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল পড়ে থাকা রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের দাবি, একাধিকবার অনুরোধ ও সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় সম্প্রতি রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাটরা বাজার হয়ে মাতুব্বর বাড়ি—দাড়িয়াল ইউনিয়নের মধুকাঠি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। শত বছরেরও বেশি পুরোনো এই সড়ক দিয়ে একসময় নিয়মিত মানুষের চলাচল থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন প্রায় হাঁটারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন-নিবেদন করা হলেও বারবার আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবে কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাদের অভিযোগ, “এলাকায় কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় দুধল ইউনিয়নের এই বেহাল দশা।”
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় একদল বাসিন্দা রাস্তার মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করেন। প্রতীকী এই ‘ধান চাষ’ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন—যে রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল সম্ভব নয়, সেখানে ধান চাষ করাই যেন এখন সবচেয়ে উপযোগী কাজ।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, “রাস্তা যেহেতু সরকারি, তাই এখানে ফলানো ফসলও আমরা সরকারি কোষাগারে জমা দেব। আশা করছি, জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি পড়বে এবং ফসল তোলার আগেই রাস্তা সংস্কার করা হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, “১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও দুধল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। চাটরা-দওেরাবাদ এলাকায় নেই মানসম্মত একটি রাস্তা।” তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাস্তার দুরবস্থার ছবি ও ভিডিও তুলে ধরেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অবহেলিত এই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকে দ্রুত নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ও আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মোঃ রাকিবুল ইসলাম (রাকিব) 


















