বাকেরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে হঠাৎ করে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে করে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও সমানতালে লোডশেডিং চলছে। এতে বিশেষ করে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্নের মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে শিশু ও বয়স্করা গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একাধিকবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর স্থানীয় অফিসে ফোন করা হলেও অধিকাংশ সময় তা রিসিভ করা হয় না। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত ইউনিট বিল আসছে বলেও অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। এ পরিস্থিতিকে পল্লী বিদ্যুতের ‘অদায়িত্বশীল আচরণ’ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি—বাকেরগঞ্জ শহরজুড়ে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অটোরিকশার চার্জিং গ্যারেজগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকায় বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়ছে, যা লোডশেডিং বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষ বিকল্প হিসেবে চার্জার ফ্যানের দিকে ঝুঁকছেন। সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
জানা গেছে, দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যেই এই লোডশেডিং পরিস্থিতি জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। যদিও বিদ্যুৎ অফিস থেকে নির্ধারিত শিডিউল দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জানান, “পাওয়ার সংকটের কারণে গত কয়েকদিন কিছু এলাকায় লোডশেডিং ছিল। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি।”
তবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ শাহিন মিরা 

















