বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০নং গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড খয়রাবাদ এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল (ধলু) হাওলাদারের নাতি ও মোঃ মিহাত হাওলাদারের পুত্র এক নিষ্পাপ শিশু গত ৮ জুন রাতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিজ ঘরে খেলাধুলার সময় চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে শিশুটি ধারালো বটির ওপর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে বটির সরু অংশ সরাসরি তার বাম চোখে বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
বরিশালে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাকে ঢাকা আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ ৯ জুন জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির বাম চোখ অপসারণ করতে হয়।
শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের। দিন এনে দিন খাওয়া এ পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে ‘গর্বের বাকেরগঞ্জ’ গারুড়িয়া ইউনিয়ন শাখা শুরু থেকেই শিশুটির পাশে দাঁড়ায়। ঢাকায় নেওয়া থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন ব্যয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে বহন করা হয়।
পরবর্তীতে ‘গর্বের বাকেরগঞ্জ’-এর উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হলে বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাড়া দেন। অনেকেই সরাসরি শিশুটির পিতার বিকাশ নম্বরে অর্থ সহায়তা পাঠান।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, শিশুটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে।
এ বিষয়ে গর্বের বাকেরঞ্জ গারুড়িয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কেএম সাইফুল ইসলাম শিহাব বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এমনকি ৯ জুন দিনের বেলায় গারুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। গর্বের বাকেরগঞ্জের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে গর্বের বাকেরঞ্জের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মোহন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, শিশুটির পরিপূর্ণ চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার দায়িত্ব গর্বের বাকেরঞ্জ বহন করবে।”
এ মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে শিশুটির পিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গর্বের বাকেরঞ্জের সকল সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও মানবিক সহায়তাকারীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মোঃ রাকিব খান 





















