ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ দুই নেতার আয়, সম্পদ ও মামলাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে, যা ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৫–২৬ করবর্ষে আয় করেছেন ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। তাঁর আয়ের প্রধান উৎস ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও শেয়ার। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ও ব্যাংকে জমা অর্থ, শেয়ার, এফডিআর, সোনা ও আসবাবসহ অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি। তিনি ওই করবর্ষে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান পেশায় চিকিৎসক। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। আয়কর বিবরণীতে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান ২০২৫–২৬ করবর্ষে আয় করেছেন ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে কৃষি ও দানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা টাকা, শেয়ার, একটি গাড়ি, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি, অকৃষিজমি ও একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। তিনি ওই করবর্ষে আয়কর দিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা।
শফিকুর রহমানের হলফনামায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের আয়–সম্পদের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। মামলাসংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অধিকাংশ মামলা খালাস, অব্যাহতি বা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে দুটি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এবার হলফনামায় তথ্যের পরিধি বাড়িয়ে ১০ ধরনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে আয়করের সর্বশেষ তথ্য, নির্ভরশীলদের পেশা এবং বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব। ভোটারদের সামনে প্রার্থীদের সম্পর্কে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য তুলে ধরতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ডেস্ক রিপোর্টঃ 


















