২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডায় ১৭তলা ভবনের সমান উঁচু ফুটবল

এবার ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে দেখা মিলছে ১৭ তলা বাড়ির সমান উঁচু এক দানবীয় ফুটবলের। শহরের অন্যতম পরিচিত ল্যান্ডমার্ক ‘সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম’-এর সুবিশাল জিওডেসিক ডোমটিকে (ত্রিভুজাকার কাঠামো দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের গম্বুজ) বিশালাকার অফিশিয়াল ম্যাচ বলের আদলে মুড়ে দেওয়া হয়েছে।

আর তাতেই তৈরি হয়ে গেছে ১৭ তলা ভবনের সমান উঁচু এই ফুটবল, যেটি এখন পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ছে।

এ গল্পের শুরুটা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে, বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক শহর হিসেবে কী করা যায়, তা নিয়ে আড্ডার ছলে, নিতান্তই হালকা এক আলোচনা থেকে। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬–এর কয়েকটি ম্যাচ ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্টেডিয়ামের কাছেই সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম। আর মিউজিয়ামের ছাদ তো এমনিতেই একটা বিশাল গোলক, তাহলে সেটাকেই কেন ফুটবলের রূপ দেওয়া হচ্ছে না? কথাটি তখন হাসির ছলে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাডিডাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সরকারের যৌথ সহায়তায় তা বাস্তবে রূপ নেয়।

যদিও গোলক আকৃতির ছাদকে ফুটবলের মতো রূপ দেওয়ার কথা বলা যতটা সহজ, কাজে করা ঠিক ততটাই কঠিন ছিল। ১৯৮৬ সালে ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারের জন্য নির্মিত এই রুপালি ডোম বা গম্বুজটির কোনো আধুনিক ডিজিটাল নকশা ছিল না। ছিল কেবল স্থপতি ব্রুনো ফ্রেস্কির হাতে আঁকা পুরোনো ব্লুপ্রিন্ট।

গম্বুজের নিখুঁত মাপ নিতে তাই আকাশে ওড়ানো হয় লেজার প্রযুক্তির ড্রোন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ডোমের প্রতিটি প্যানেল একটি অন্যটির চেয়ে কিছুটা আলাদা। শেষ পর্যন্ত তীব্র বাতাস সহ্য করতে পারে—এমন নানা রঙের নমনীয় প্যানেল তৈরি করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নম্বর মিলিয়ে মিলিয়ে পুরো গোলকটি সেগুলো দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, গোলকটি রূপ নেয় ফুটবলের।

বলের লোগো ও বিশ্বকাপের ট্রফির অংশটি এমনভাবে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মুখ করে বসানো হয়েছে, যাতে ক্যামেরার এক ফ্রেমে সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি স্টেডিয়াম, শহরতলী, নীল জলরাশি আর পেছনের পাহাড়গুলো চমৎকারভাবে ধরা পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এই আইকনিক দৃশ্যের ছবি ও ভিডিওর ঝড় বইছে।

বাইরে চোখধাঁধানো ফুটবল, মিউজিয়ামের ভেতরেও রয়েছে চমক। জুরিখের বাইরে এই প্রথম এখানে বসেছে ফিফার বিশেষ প্রদর্শনী ‘সকার অ্যান্ড টেকনোলজি’। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কানাডার ফুটবলের কিছু স্মৃতি—যেমন টোকিও অলিম্পিকে ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ারের পরা গোল্ড মেডেল ম্যাচের জার্সি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আলফোনসো ডেভিসের করা ঐতিহাসিক গোলের বলটি।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খুলনায় গ্রেপ্তার, অভিযানে বাকেরগঞ্জ থানা

কানাডায় ১৭তলা ভবনের সমান উঁচু ফুটবল

Update Time : ১০:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

এবার ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে দেখা মিলছে ১৭ তলা বাড়ির সমান উঁচু এক দানবীয় ফুটবলের। শহরের অন্যতম পরিচিত ল্যান্ডমার্ক ‘সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম’-এর সুবিশাল জিওডেসিক ডোমটিকে (ত্রিভুজাকার কাঠামো দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের গম্বুজ) বিশালাকার অফিশিয়াল ম্যাচ বলের আদলে মুড়ে দেওয়া হয়েছে।

আর তাতেই তৈরি হয়ে গেছে ১৭ তলা ভবনের সমান উঁচু এই ফুটবল, যেটি এখন পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ছে।

এ গল্পের শুরুটা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে, বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক শহর হিসেবে কী করা যায়, তা নিয়ে আড্ডার ছলে, নিতান্তই হালকা এক আলোচনা থেকে। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬–এর কয়েকটি ম্যাচ ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্টেডিয়ামের কাছেই সায়েন্স ওয়ার্ল্ড মিউজিয়াম। আর মিউজিয়ামের ছাদ তো এমনিতেই একটা বিশাল গোলক, তাহলে সেটাকেই কেন ফুটবলের রূপ দেওয়া হচ্ছে না? কথাটি তখন হাসির ছলে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাডিডাস, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সরকারের যৌথ সহায়তায় তা বাস্তবে রূপ নেয়।

যদিও গোলক আকৃতির ছাদকে ফুটবলের মতো রূপ দেওয়ার কথা বলা যতটা সহজ, কাজে করা ঠিক ততটাই কঠিন ছিল। ১৯৮৬ সালে ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারের জন্য নির্মিত এই রুপালি ডোম বা গম্বুজটির কোনো আধুনিক ডিজিটাল নকশা ছিল না। ছিল কেবল স্থপতি ব্রুনো ফ্রেস্কির হাতে আঁকা পুরোনো ব্লুপ্রিন্ট।

গম্বুজের নিখুঁত মাপ নিতে তাই আকাশে ওড়ানো হয় লেজার প্রযুক্তির ড্রোন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ডোমের প্রতিটি প্যানেল একটি অন্যটির চেয়ে কিছুটা আলাদা। শেষ পর্যন্ত তীব্র বাতাস সহ্য করতে পারে—এমন নানা রঙের নমনীয় প্যানেল তৈরি করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নম্বর মিলিয়ে মিলিয়ে পুরো গোলকটি সেগুলো দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, গোলকটি রূপ নেয় ফুটবলের।

বলের লোগো ও বিশ্বকাপের ট্রফির অংশটি এমনভাবে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মুখ করে বসানো হয়েছে, যাতে ক্যামেরার এক ফ্রেমে সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি স্টেডিয়াম, শহরতলী, নীল জলরাশি আর পেছনের পাহাড়গুলো চমৎকারভাবে ধরা পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এই আইকনিক দৃশ্যের ছবি ও ভিডিওর ঝড় বইছে।

বাইরে চোখধাঁধানো ফুটবল, মিউজিয়ামের ভেতরেও রয়েছে চমক। জুরিখের বাইরে এই প্রথম এখানে বসেছে ফিফার বিশেষ প্রদর্শনী ‘সকার অ্যান্ড টেকনোলজি’। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কানাডার ফুটবলের কিছু স্মৃতি—যেমন টোকিও অলিম্পিকে ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ারের পরা গোল্ড মেডেল ম্যাচের জার্সি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আলফোনসো ডেভিসের করা ঐতিহাসিক গোলের বলটি।