০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা: কার্যকর হচ্ছে ‘ভিসা বন্ড’

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন একটি আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা হিসেবে পরিচিত বি১/বি২ ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার সব শর্ত পূরণ করলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ধাপে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারে কর্মকর্তার সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই অঙ্ক নির্ধারিত হবে।
জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিতভাবে নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভিসা বন্ড একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ করার প্রবণতা কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সময়মতো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ না করার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত আগস্টে সীমিত কয়েকটি দেশ নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে।

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য। অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে কিংবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে জামানত ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে—যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে—জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ ছাড়া ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর—বোস্টন লোগান (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস (IAD)—দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য পথে প্রবেশ করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় এখন অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা প্রয়োজন হবে। ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা হলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে এ ধরনের ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার নজির তুলনামূলকভাবে সীমিত।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা: কার্যকর হচ্ছে ‘ভিসা বন্ড’

Update Time : ১০:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন একটি আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা হিসেবে পরিচিত বি১/বি২ ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার সব শর্ত পূরণ করলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ধাপে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারে কর্মকর্তার সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই অঙ্ক নির্ধারিত হবে।
জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিতভাবে নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভিসা বন্ড একটি পাইলট কর্মসূচির অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ করার প্রবণতা কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সময়মতো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ না করার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত আগস্টে সীমিত কয়েকটি দেশ নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে।

ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই অর্থ ফেরতযোগ্য। অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে কিংবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে জামানত ফেরত পাওয়া যাবে। তবে কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে—যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে—জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ ছাড়া ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর—বোস্টন লোগান (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস (IAD)—দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য পথে প্রবেশ করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় এখন অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা প্রয়োজন হবে। ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা হলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে এ ধরনের ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার নজির তুলনামূলকভাবে সীমিত।