২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট- অতিরিক্ত দামে বিপাকে সাধারণ মানুষ

বাকেরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে এলপিজি রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেও অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সিলিন্ডার। এই কৃত্রিম সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারগুলো।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ খুচরা দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকানের সামনে সারি সারি খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকলেও তাতে গ্যাস নেই। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা—যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।

গ্যাস সংকটের কারণে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছে। এতে সাময়িকভাবে রান্নার কাজ চললেও মাস শেষে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের আশঙ্কায় নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা।

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “কিছুদিন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন অল্প কিছু বিএম গ্যাস পাওয়া গেলেও পাইকারি দামই রাখা হচ্ছে ১৪৫০ টাকা। পরিবহন খরচ যোগ করে আমাদের বাধ্য হয়ে ১৫৫০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। এক গ্রাহক জানান, গত সপ্তাহে তাকে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন করে এলপিজি বহনকারী জাহাজ দেশে না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় দোকান বন্ধ রেখেছেন। সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।”

দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা না হলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

ফুটওভার ব্রিজের অভাবে ফের দুর্ঘটনা: হাতেম আলী চৌমাথায় ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ গুরুতর আহত

বাকেরগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট- অতিরিক্ত দামে বিপাকে সাধারণ মানুষ

Update Time : ০৯:৩৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে এলপিজি রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেও অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সিলিন্ডার। এই কৃত্রিম সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারগুলো।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ খুচরা দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকানের সামনে সারি সারি খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকলেও তাতে গ্যাস নেই। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা—যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।

গ্যাস সংকটের কারণে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছে। এতে সাময়িকভাবে রান্নার কাজ চললেও মাস শেষে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের আশঙ্কায় নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা।

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “কিছুদিন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন অল্প কিছু বিএম গ্যাস পাওয়া গেলেও পাইকারি দামই রাখা হচ্ছে ১৪৫০ টাকা। পরিবহন খরচ যোগ করে আমাদের বাধ্য হয়ে ১৫৫০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। এক গ্রাহক জানান, গত সপ্তাহে তাকে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন করে এলপিজি বহনকারী জাহাজ দেশে না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় দোকান বন্ধ রেখেছেন। সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।”

দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা না হলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।