বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরে বরপক্ষ। কিন্তু বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর কনের চেহারা দেখে বর দাবি করেন—যে মেয়েকে তাঁকে দেখানো হয়েছিল, এ মেয়ে সে নয়। অভিযোগ ওঠে কনে বদলে দেওয়ার। পরদিনই নববধূকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। অবশেষে কনেপক্ষের মামলায় জামিন বাতিল হয়ে কারাগারে যেতে হলো বরকে।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও জেলায় আলোচিত এই ঘটনা ঘটেছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার শর্তে প্রথমে বরকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধান না হওয়ায় গতকাল সোমবার আদালতে হাজির হলে বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন বর। কিন্তু বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর বর দাবি করেন—বিয়ের আগে তাঁকে যে মেয়ে দেখানো হয়েছিল, এটি সেই মেয়ে নয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিনই কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তবে কনের বাবা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কনে বদলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বরপক্ষ যৌতুক আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ নাটক সাজিয়েছে। এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ আগস্ট বর ও তাঁর ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রতারণার অভিযোগ এনে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর মেয়ের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন বর। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের সময় বিষয়টি বুঝতে পারেননি। বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন কনে বদলে দেওয়া হয়েছে।
মেয়ের বাবা বলেন, “বিয়ের আগে ছেলেপক্ষ বাড়িতে এসে মেয়েকে দেখে গিয়েছিল। তখন কোনো যৌতুকের কথা হয়নি। কিন্তু বিয়ের পরদিনই তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিতেও রাজি হয়েছিলাম, তবু তারা সময় দিতে চায়নি। এখন কনে বদলের মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।”
বরের মামা বলেন, “ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী। দ্রুত বিদেশে ফেরার তাড়া থাকায় তাড়াহুড়ো করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। সেই সুযোগে ঘটক ও মেয়ের বাবা মিলে কনে বদল করেছেন।”
তবে ঘটক এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি যাকে দেখিয়েছেন, তাকেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে; কোনো ধরনের প্রতারণা হয়নি।
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন বলেন, “মীমাংসার শর্তে বর জামিনে ছিলেন। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় আদালত এখন জামিন বাতিল করেছেন। বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তি আদালতেই হবে।”
অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে দুই পরিবার।
স্টাফ রিপোর্টার 



















