বরিশালের চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় পুত্রবধূ ও তার ভাড়াটিয়া সহযোগীদের নৃসংশ হামলায় সোহেল ঘরামি (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট সংলগ্ন চর কাউয়া খেয়াঘাটের মুখে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সোহেল ঘরামি তার ছেলে ও পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে ভোরে ঢাকা থেকে ‘মানামি’ লঞ্চে বরিশালে পৌঁছান। লঞ্চ থেকে নামার পর চর কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, সোহেলের পুত্রবধূ (নয়ন-এর স্ত্রী) ও তার বেয়াই মন্টুর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এই হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা সোহেল ঘরামিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তার কাছে থাকা নগদ ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সোহেলের খালাতো ভাই শাহিনও হামলার শিকার হন।
আহত সোহেল ঘরামি বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কোষাবর গ্রামের খলিল ঘরামির ছেলে। হামলার পর তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর থেকে এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ভুক্তভোগীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করা হতে পারে।
আহতের স্বজন শাহিন গণমাধ্যমকে বলেন, “লঞ্চ থেকে নামার পর কিছু বোঝার আগেই সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিকল্পিতভাবে তারা টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমার ভাইকে হত্যার চেষ্টা করে। আমরা এখন তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রোগীর জীবন বাঁচানোই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সোহেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার 



















