০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে বিক্রি, দম্পতি আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ইশতেহারের দোহাই দিয়ে ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এস এম ফয়েজ বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। কারও কাছে এ ধরনের কার্ড বিক্রির প্রস্তাব এলে যাচাই-বাছাই ছাড়া টাকা না দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

আটকরা হলেন- রাসেল ওরফে জিলানী এবং তার স্ত্রী হাসিনা।

ভুক্তভোগীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই রাসেল ও তার স্ত্রী কাশিপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর এলাকায় প্রচার শুরু করেন। তারা নিজেকে ‌‘বিএনপি কর্মী’ পরিচয় দিয়ে ‘জিসান ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সহজ-সরল নারীদের কাছে টাকার বিনিময়ে ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করেন। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে তারা কমপক্ষে ৩০০ পরিবারের কাছে ৫০ টাকা দরে একেকটি কার্ড বিক্রি করেন।

তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই কার্ড দেখালে প্রতি মাসে এক হাজার ২৮৫ টাকায় চাল, ডাল, তেল, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য কেনা যাবে। সোমবার সকালে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের বিনিময়ে প্রথম কিস্তির পণ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও কার্ড ক্রেতারা পণ্য পাননি। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। পরে ভুক্তভোগী নারীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত জিলানীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর- এই চারটি এলাকায় কার্ড বিতরণ করা হয়। কার্ড ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী ও স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় তারা সহজেই প্রলোভনে পড়েন বলে জানান করেন কয়েকজন বাসিন্দা।

জরিনা খাতুন নামে ফ্যামিলি কার্ডের একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল সরকারিভাবে কোম্পানি থেকে এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আমরা সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করছি। কার্ড দেবে বলে বসিয়ে রাখে। পরে তাকে ফোন দিলে ফোনও ধরেনি।’

অভিযুক্ত রাসেল ওরফে জিলানী মহানগর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এই প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘রাসেল ওরফে জিলানি নামে কাউকে আমি চিনি না। সে আমাদের দলের কেউ না। যে এই ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করছে, নিঃসন্দেহে সে একজন প্রতারক। তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। আমরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেবো না।’

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

রাজশাহীকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাকেরগঞ্জের মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে বিক্রি, দম্পতি আটক

Update Time : ১১:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ইশতেহারের দোহাই দিয়ে ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এস এম ফয়েজ বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। কারও কাছে এ ধরনের কার্ড বিক্রির প্রস্তাব এলে যাচাই-বাছাই ছাড়া টাকা না দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

আটকরা হলেন- রাসেল ওরফে জিলানী এবং তার স্ত্রী হাসিনা।

ভুক্তভোগীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই রাসেল ও তার স্ত্রী কাশিপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর এলাকায় প্রচার শুরু করেন। তারা নিজেকে ‌‘বিএনপি কর্মী’ পরিচয় দিয়ে ‘জিসান ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সহজ-সরল নারীদের কাছে টাকার বিনিময়ে ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করেন। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে তারা কমপক্ষে ৩০০ পরিবারের কাছে ৫০ টাকা দরে একেকটি কার্ড বিক্রি করেন।

তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই কার্ড দেখালে প্রতি মাসে এক হাজার ২৮৫ টাকায় চাল, ডাল, তেল, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য কেনা যাবে। সোমবার সকালে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের বিনিময়ে প্রথম কিস্তির পণ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও কার্ড ক্রেতারা পণ্য পাননি। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। পরে ভুক্তভোগী নারীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত জিলানীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর- এই চারটি এলাকায় কার্ড বিতরণ করা হয়। কার্ড ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী ও স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় তারা সহজেই প্রলোভনে পড়েন বলে জানান করেন কয়েকজন বাসিন্দা।

জরিনা খাতুন নামে ফ্যামিলি কার্ডের একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল সরকারিভাবে কোম্পানি থেকে এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আমরা সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করছি। কার্ড দেবে বলে বসিয়ে রাখে। পরে তাকে ফোন দিলে ফোনও ধরেনি।’

অভিযুক্ত রাসেল ওরফে জিলানী মহানগর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এই প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘রাসেল ওরফে জিলানি নামে কাউকে আমি চিনি না। সে আমাদের দলের কেউ না। যে এই ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করছে, নিঃসন্দেহে সে একজন প্রতারক। তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। আমরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেবো না।’