২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকেরগঞ্জে ৯৯% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার: একুশের শ্রদ্ধা সীমাবদ্ধ অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে, স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি

বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৯৯ শতাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। একই চিত্র অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায়ও ভাষা শহীদদের স্মরণে নেই কোনো স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ। ফলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত পরিসরে পালিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। ফলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতিহাস চর্চার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না বলেও মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সামাজিক সংগঠন গর্বের বাকেরগঞ্জ-এর উপজেলা সমন্বয়ক আফজাল হোসেন গাজী বলেন, “সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহীদ মিনারের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারবে।”

অন্যদিকে, উপজেলার একমাত্র ভাষাসৈনিক মোঃ মোবারক হোসেনের সন্তান এইচএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “বাকেরগঞ্জে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই- এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।” তিনি অবিলম্বে উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সচেতন নাগরিকদের মতে, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও ইতিহাস পৌঁছে দিতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

ফুটওভার ব্রিজের অভাবে ফের দুর্ঘটনা: হাতেম আলী চৌমাথায় ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ গুরুতর আহত

বাকেরগঞ্জে ৯৯% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার: একুশের শ্রদ্ধা সীমাবদ্ধ অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে, স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি

Update Time : ১০:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৯৯ শতাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। একই চিত্র অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায়ও ভাষা শহীদদের স্মরণে নেই কোনো স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ। ফলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত পরিসরে পালিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। ফলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতিহাস চর্চার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না বলেও মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সামাজিক সংগঠন গর্বের বাকেরগঞ্জ-এর উপজেলা সমন্বয়ক আফজাল হোসেন গাজী বলেন, “সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহীদ মিনারের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারবে।”

অন্যদিকে, উপজেলার একমাত্র ভাষাসৈনিক মোঃ মোবারক হোসেনের সন্তান এইচএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “বাকেরগঞ্জে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই- এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।” তিনি অবিলম্বে উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সচেতন নাগরিকদের মতে, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও ইতিহাস পৌঁছে দিতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।