৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যা, চাচাতো ভাই আটক

মায়ের কাছ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সিরাজুল আল শামস (৭) নামক এক শিশুকে হাত-পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার আপন চাচাতো ভাই আমানুর ইসলামকে (২১) আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের। এর আগে শুক্রবার রাতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুল বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত শামস উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আমানুর ইসলাম একই এলাকার মজিদুল ইসলামের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।

শিশুটির মা শাম্মী আক্তার বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আমানুর ইসলাম। পরে ছেলের বাড়িতে ফিরে না আসলে খোঁজাখুঁজি করতে করতে রাত ৯টায় বাড়ির পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার পড়ে থাকার খবর শুনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণ করে।

দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ঘটনার অভিযুক্তের বরাতে তিনি বলেন, ঘাতকের বাড়ির সামনের অংশের সম্পত্তি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিহত ওই শিশুর বাবা কিছু দিন আগেই ক্রয় করেন। এছাড়াও চাচার আর্থিক অবস্থা তাদের চেয়ে ভাল থাকায় চাচাতো ভাইকে ওই সম্পত্তির লোভে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমানুর ইসলাম আমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে মায়ের কাছ থেকে নামাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির অদূরে একটি মাদ্রাসা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ওই মাদ্রাসার দেয়াল ঘেঁষে ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গলা ও হাত পায়ের রগ কেটে ভুট্টা ক্ষেতে রেখে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘসময় বাড়িতে না আসায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভুট্টার ক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমানুর ইসলাম তার বাবা মজিদুল ইসলাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আমানুর ইসলাম। তার দেওয়া তথ্যমতে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) জানান, ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হলেও অন্য দুজনের সম্পর্ক না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যা, চাচাতো ভাই আটক

Update Time : ০৮:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মায়ের কাছ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সিরাজুল আল শামস (৭) নামক এক শিশুকে হাত-পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার আপন চাচাতো ভাই আমানুর ইসলামকে (২১) আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের। এর আগে শুক্রবার রাতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুল বাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত শামস উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আমানুর ইসলাম একই এলাকার মজিদুল ইসলামের ছেলে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।

শিশুটির মা শাম্মী আক্তার বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আমানুর ইসলাম। পরে ছেলের বাড়িতে ফিরে না আসলে খোঁজাখুঁজি করতে করতে রাত ৯টায় বাড়ির পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার পড়ে থাকার খবর শুনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণ করে।

দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ঘটনার অভিযুক্তের বরাতে তিনি বলেন, ঘাতকের বাড়ির সামনের অংশের সম্পত্তি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিহত ওই শিশুর বাবা কিছু দিন আগেই ক্রয় করেন। এছাড়াও চাচার আর্থিক অবস্থা তাদের চেয়ে ভাল থাকায় চাচাতো ভাইকে ওই সম্পত্তির লোভে হত্যার পরিকল্পনা করেন আমানুর ইসলাম আমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার রাতে মায়ের কাছ থেকে নামাজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির অদূরে একটি মাদ্রাসা ঘরে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ওই মাদ্রাসার দেয়াল ঘেঁষে ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গলা ও হাত পায়ের রগ কেটে ভুট্টা ক্ষেতে রেখে বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘসময় বাড়িতে না আসায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভুট্টার ক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমানুর ইসলাম তার বাবা মজিদুল ইসলাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটিকে প্রথমে শ্বাসরোধ পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে আমানুর ইসলাম। তার দেওয়া তথ্যমতে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) জানান, ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হলেও অন্য দুজনের সম্পর্ক না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।