৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেন-জি বিক্ষোভের পর নেপালে প্রথম ভোটগ্রহণ চলছে, তীব্র লড়াই অলি–শাহ–থাপার

নেপালে নতুন সংসদ গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রাণঘাতী দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হিমালয় অঞ্চলের প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপালে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচনের একটি। এবারের ভোটকে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তিশালী যুব আন্দোলনের মধ্যে এক উচ্চঝুঁকির লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভোটাররা বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে নতুন সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গণআন্দোলনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সেই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং সংসদ ভবনসহ বহু সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদ থেকে জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হলেও পরে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ এতে যোগ হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ভোটারদের ‘ভয়ভীতি ছাড়া’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে হাজারো সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ১৬৫টি আসনে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি ১১০টি আসন দলীয় তালিকার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি জানিয়েছেন, সরাসরি নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে, তবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একক দল সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে— এমন সম্ভাবনা কম।

২০২৫ সালের জেন জি আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকার পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী
ক্ষমতার লড়াইয়ে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত মার্কসবাদী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মাঠে নামা র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেসের নতুন নেতা গগন থাপা।

তিন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীই রাজধানীর দক্ষিণের সমতল অঞ্চলের আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ৭৪ বছর বয়সী কে পি শর্মা অলি নিজের এলাকা ঝাপা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি সেন্ট্রিস্ট রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির প্রার্থী। প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ভোটার নিয়ে গঠিত এই আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অলি সংসদে ফিরতে পারবেন কি না, নাকি শাহ প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করবেন।

তরুণদের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে শাহ ভোটারদের দলীয় প্রতীক ‘ঘণ্টা বাজিয়ে’ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে ফিরে ক্ষমতায় থাকা প্রবীণ নেতাদের ‘পুরোনো রাজনীতির চক্র’ ভাঙতে চান।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

জেন-জি বিক্ষোভের পর নেপালে প্রথম ভোটগ্রহণ চলছে, তীব্র লড়াই অলি–শাহ–থাপার

Update Time : ০৯:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নেপালে নতুন সংসদ গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রাণঘাতী দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনকে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হিমালয় অঞ্চলের প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপালে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচনের একটি। এবারের ভোটকে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তিশালী যুব আন্দোলনের মধ্যে এক উচ্চঝুঁকির লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভোটাররা বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে নতুন সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গণআন্দোলনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সেই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং সংসদ ভবনসহ বহু সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদ থেকে জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হলেও পরে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ এতে যোগ হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ভোটারদের ‘ভয়ভীতি ছাড়া’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে হাজারো সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ১৬৫টি আসনে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি ১১০টি আসন দলীয় তালিকার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি জানিয়েছেন, সরাসরি নির্বাচনের প্রাথমিক ফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে, তবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একক দল সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে— এমন সম্ভাবনা কম।

২০২৫ সালের জেন জি আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকার পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী
ক্ষমতার লড়াইয়ে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত মার্কসবাদী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মাঠে নামা র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র বালেন্দ্র শাহ এবং নেপালের প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেসের নতুন নেতা গগন থাপা।

তিন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীই রাজধানীর দক্ষিণের সমতল অঞ্চলের আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ৭৪ বছর বয়সী কে পি শর্মা অলি নিজের এলাকা ঝাপা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি সেন্ট্রিস্ট রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির প্রার্থী। প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ভোটার নিয়ে গঠিত এই আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অলি সংসদে ফিরতে পারবেন কি না, নাকি শাহ প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করবেন।

তরুণদের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে শাহ ভোটারদের দলীয় প্রতীক ‘ঘণ্টা বাজিয়ে’ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে ফিরে ক্ষমতায় থাকা প্রবীণ নেতাদের ‘পুরোনো রাজনীতির চক্র’ ভাঙতে চান।