বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৮ নং নলুয়া ইউনিয়নের মৌকরন নবানখালী সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল ও তরমুজ ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জমির এসএ রেকর্ডভুক্ত মালিকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৌকরন এলাকার বাসিন্দা জয়দেব চন্দ্র দাস (পিতা: স্বর্গীয় কালা চন্দ্র দাস) ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক জমি দখল ও সেখানে থাকা তরমুজ ফসল কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিকরা।
এসএ রেকর্ড অনুযায়ী জমির মালিকরা হলেন— মো. কামাল মোল্লা (পিতা: কাঞ্চন মোল্লা), মো. সৈকত মীর (পিতা: আমজেদ আলী মীর), মো. নুর মৃধা (পিতা: খাদেম আলী মৃধা), মো. রহিম গাজী (পিতা: সুলতান গাজী), মো. ইউনুচ মোল্লা (পিতা: আব্দুর রশিদ মোল্লা), মোছা. পরিভানু (স্বামী: তোজম্বর আলী হাং) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (পিতা: ইমানউদ্দিন হাওলাদার)। তাদের সকলের বাড়ি নলুয়া ইউনিয়নের মৌকরন ও মধ্য নলুয়া এলাকায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে বিচার চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় জয়দেব চন্দ্র দাস ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল কেটে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং জমি দখলের হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় জমির মালিকরা বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নং ২৮৮/২০২৬। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে— জয়দেব চন্দ্র দাস, মো. জাহাঙ্গীর ঘরামী, মো. ছবুর খান, মো. জিয়া হাওলাদার, গৌতম চন্দ্র দাসসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ১৫ জনকে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ সকাল প্রায় ১০টার দিকে বিবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে বাদীদের জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা জমিতে থাকা তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল কাটতে উদ্যত হয়। বাদী পক্ষ বাধা দিলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র যেমন— রামদা, বগিদা, লেজা, শুলকি, ছোরা ও লাঠিসোটা নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসএ রেকর্ডভুক্ত জমির মালিকদের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি তাদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় জমির মালিকরা আদালতের কাছে জমিতে বিবাদীদের প্রবেশ, ফসল কাটা ও জোরপূর্বক দখল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় এলাকাবাসী পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 



















