ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছিন্দওয়ারা-নাগপুর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মিনি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু ও তিন নারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মোহখেদ থানা এলাকার উমরনালা গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে ৪৫ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন, যারা মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের একটি সরকারি জনসভা থেকে ফিরছিলেন।
ছিন্দওয়ারার জেলা প্রশাসক হরেন্দ্র নারায়ণ জানিয়েছেন, দ্রুতগামী বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী মিনি ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে যায় এবং দুই যানের চালকসহ ১০ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। উন্নত চিকিৎসার জন্য গুরুতর আহত একজনকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি এবং গুরুতর আহতদের ১ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়ে জাবালপুর থেকে চিকিৎসক দল পাঠিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী রাকেশ সিংকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারী সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবহার করে জোরপূর্বক ভিড় জমানোর ফলাফল এই ট্র্যাজেডি।’ জনগণের করের টাকা খরচ করে ভাড়ায় লোক আনার অভিযোগ তুলে তিনি এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ছিন্দওয়ারায় ৫০০ কোটি রুপির উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভাড়া করা বাসে করে ফেরার পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন সাধারণ মানুষ।
ডেস্ক রিপোর্ট 



















