বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়েরের জেরে বাদীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারপ্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ নম্বর রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনশী গ্রামের মৃত আলতাব হোসেন খানের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন খানের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল ওহাব খান ও খসরু খানদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে আনোয়ার হোসেন খান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মোকদ্দমা নং এমপি-৩৪২/২০২৬, বাকেরগঞ্জ)।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পুলিশ বিবাদীপক্ষকে নোটিশ প্রদান করলে অভিযোগ ওঠে, এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীর ওপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল বিকেলে বিবাদীপক্ষের কয়েকজন সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির কন্যা মোসাম্মৎ ঐশী আক্তার বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা সাধারণত জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ এড়াতে ব্যবহৃত হয়। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বিচারব্যবস্থার প্রতিও চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নোটিশ প্রদানের পরও পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরও একজন ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলা প্রত্যাহারে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আদালতের নির্দেশ যথাযথ বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি স্থানীয় বিরোধ নয়; বরং গ্রামীণ পর্যায়ে আইনের শাসন ও বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
স্টাফ রিপোর্টার 



















