৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোহীন গোমা সেতুতে রাতের আতঙ্ক — উদ্বোধনের আনন্দ ম্লান, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

দীর্ঘ ৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বাকেরগঞ্জের দিনারেরপুল-লক্ষ্মীপয়সা-দুমকি জেলা মহাসড়কের ১৪ কিলোমিটার অংশে রাঙ্গামাটিয়া নদীর উপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত গোমা সেতু। সেতুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে নদীবেষ্টিত পূর্বাঞ্চলের মানুষের সাথে পার্শ্ববর্তী বাউফল উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল সদর ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

তবে উদ্বোধনের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে রাত নামলেই এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি পরিণত হচ্ছে চরম দুর্ভোগের প্রতীকে। পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাবে পুরো সেতু এলাকা ডুবে থাকে ঘন অন্ধকারে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে এখনো পর্যন্ত কোনো সড়কবাতি স্থাপন করা হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ভোগান্তি। শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল হয়ে উঠেছে অনিরাপদ ও কষ্টকর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় সেতু পারাপারের সময় অনেককেই মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করতে হয়। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও বেড়েছে। মোটরসাইকেল চালকরাও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে না পেরে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সেতু এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন সেতু নির্মাণে আমরা আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু আলো না থাকায় সেই আনন্দ এখন আতঙ্ক ও দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সেতুতে সড়কবাতি স্থাপন না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে সড়কবাতির জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

বাকেরগঞ্জে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আলোহীন গোমা সেতুতে রাতের আতঙ্ক — উদ্বোধনের আনন্দ ম্লান, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

Update Time : ০৯:২৩:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ ৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বাকেরগঞ্জের দিনারেরপুল-লক্ষ্মীপয়সা-দুমকি জেলা মহাসড়কের ১৪ কিলোমিটার অংশে রাঙ্গামাটিয়া নদীর উপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত গোমা সেতু। সেতুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে নদীবেষ্টিত পূর্বাঞ্চলের মানুষের সাথে পার্শ্ববর্তী বাউফল উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল সদর ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।

তবে উদ্বোধনের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে রাত নামলেই এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি পরিণত হচ্ছে চরম দুর্ভোগের প্রতীকে। পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাবে পুরো সেতু এলাকা ডুবে থাকে ঘন অন্ধকারে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে এখনো পর্যন্ত কোনো সড়কবাতি স্থাপন করা হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ভোগান্তি। শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল হয়ে উঠেছে অনিরাপদ ও কষ্টকর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় সেতু পারাপারের সময় অনেককেই মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করতে হয়। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও বেড়েছে। মোটরসাইকেল চালকরাও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে না পেরে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সেতু এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন সেতু নির্মাণে আমরা আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু আলো না থাকায় সেই আনন্দ এখন আতঙ্ক ও দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সেতুতে সড়কবাতি স্থাপন না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে সড়কবাতির জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।