৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব মা দিবস আজ- মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ দিন

‘মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই’— কথাটি যেন চিরন্তন সত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম ডাক ‘মা’। জন্মের পর মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দও এই ‘মা’। ছোট্ট এ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর স্নেহ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও অকৃত্রিম দরদ।

আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হচ্ছে দিনটি। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই বিশেষ এই দিবসের আয়োজন।

যদিও মাকে ভালোবাসতে কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখের প্রয়োজন হয় না। সন্তানের হৃদয়ে প্রতিদিনই থাকেন মা। তবুও ব্যস্ত জীবনের মাঝে আলাদা করে মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে এই দিনটি।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিসে মা দিবস পালনের প্রচলন থাকলেও আধুনিক বিশ্বে দিবসটির প্রবর্তন করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী সমাজকর্মী। ভার্জিনিয়ার শান্তিবাদী সমাজকর্মী অ্যান জারভিস নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতেন এবং ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

অ্যান জারভিস একদিন তার ছোট মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিসের সামনে আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ মায়েদের জন্য একটি দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মানবতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন।”

১৯০৫ সালে অ্যান জারভিস মৃত্যুবরণ করলে, তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে উদ্যোগ নেন। ওই বছরই তিনি তার সানডে স্কুলে প্রথমবারের মতো ‘মা দিবস’ পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশেও দিনটি ঘরোয়া ও পারিবারিক পরিবেশে উদযাপন করা হয়। সন্তানরা মায়েদের ফুল, উপহার ও ভালোবাসার বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই মায়ের সঙ্গে ছবি, কবিতা ও আবেগঘন স্ট্যাটাস শেয়ার করে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

এদিকে মা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশেষ আয়োজনও করে থাকে। নানা ধরনের পোশাক ও উপহারের সংগ্রহ উন্মোচন করা হয় এ উপলক্ষে।

মা দিবসের মূল বার্তা হলো— মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের প্রতি সম্মান জানানো। মা-ই একজন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, অভিভাবক ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের সুখ, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনাই হোক সবার প্রত্যাশা।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

বিশ্ব মা দিবস আজ- মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ দিন

Update Time : ০৯:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

‘মায়ের চেয়ে আপন কেহ নাই’— কথাটি যেন চিরন্তন সত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম ডাক ‘মা’। জন্মের পর মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দও এই ‘মা’। ছোট্ট এ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে গভীর স্নেহ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও অকৃত্রিম দরদ।

আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হচ্ছে দিনটি। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই বিশেষ এই দিবসের আয়োজন।

যদিও মাকে ভালোবাসতে কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখের প্রয়োজন হয় না। সন্তানের হৃদয়ে প্রতিদিনই থাকেন মা। তবুও ব্যস্ত জীবনের মাঝে আলাদা করে মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে এই দিনটি।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিসে মা দিবস পালনের প্রচলন থাকলেও আধুনিক বিশ্বে দিবসটির প্রবর্তন করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী সমাজকর্মী। ভার্জিনিয়ার শান্তিবাদী সমাজকর্মী অ্যান জারভিস নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতেন এবং ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

অ্যান জারভিস একদিন তার ছোট মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিসের সামনে আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, “আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ মায়েদের জন্য একটি দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মানবতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন।”

১৯০৫ সালে অ্যান জারভিস মৃত্যুবরণ করলে, তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে উদ্যোগ নেন। ওই বছরই তিনি তার সানডে স্কুলে প্রথমবারের মতো ‘মা দিবস’ পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Woodrow Wilson মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশেও দিনটি ঘরোয়া ও পারিবারিক পরিবেশে উদযাপন করা হয়। সন্তানরা মায়েদের ফুল, উপহার ও ভালোবাসার বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই মায়ের সঙ্গে ছবি, কবিতা ও আবেগঘন স্ট্যাটাস শেয়ার করে ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

এদিকে মা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশেষ আয়োজনও করে থাকে। নানা ধরনের পোশাক ও উপহারের সংগ্রহ উন্মোচন করা হয় এ উপলক্ষে।

মা দিবসের মূল বার্তা হলো— মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের প্রতি সম্মান জানানো। মা-ই একজন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, অভিভাবক ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের সুখ, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনাই হোক সবার প্রত্যাশা।