বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর দুর্গাপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এক পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হিরন হাওলাদার জানান, গত ৪ ও ৫ মে টানা ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তার বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে মিটারটি খুলে নিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, মিটার পুনঃসংযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললে স্থানীয় লাইনম্যান আউয়াল নতুন মিটার স্থাপন অথবা মেরামতের নামে প্রায় ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি বাকেরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে জোনাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মিটার পুনঃসংযোগের ব্যবস্থা করেন। এতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলেও নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
হিরন হাওলাদারের অভিযোগ, অফিসে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লাইনম্যান আউয়াল পুনরায় তার বাড়িতে গিয়ে কোনো লিখিত নোটিশ বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই মিটার খুলে নিয়ে যান। ফলে পরিবারটি আবারও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছে।
ভুক্তভোগী হিরন হাওলাদার বলেন, “আমি সরকারি নিয়ম মেনে সমস্যার সমাধান চেয়েছি। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় আমার পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু কর্মীর অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারের বিদ্যুৎ খাতের ইতিবাচক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
এইচ এম রুহুল আমিন 



















