৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ের অনার্স, বাড়ছে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করে সেগুলোকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ জোরদার করতে পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কলেজ পর্যায়ে চালু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হবে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো এখনো আলোচনাধীন রয়েছে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এদিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় এনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে। নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কর্মসংস্থানের কার্যকর সংযোগ না থাকায় উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার: বাতিল হতে পারে ৬ বিষয়ের অনার্স, বাড়ছে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা

Update Time : ১০:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করে সেগুলোকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ জোরদার করতে পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কলেজ পর্যায়ে চালু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হবে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো এখনো আলোচনাধীন রয়েছে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এদিকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা চলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় এনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে। নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কর্মসংস্থানের কার্যকর সংযোগ না থাকায় উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা এখন অত্যন্ত জরুরি।