২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই বিপ্লবের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও মূল্যায়ন প্রদান করবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা অকাতরে জীবন দিয়েছেন, সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। তিনি আশ্বস্ত করেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিচারের নামে যেন কোনোভাবেই কারও প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ পুনর্গঠনের পথে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, নতুন দেশ গঠনের এই অগ্রযাত্রাকে অন্য কোনো শক্তি যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ সময় তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনের শহীদদের সম্মান জানাতে এবং আহতদের পুনর্বাসনসহ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে এই আন্দোলনের জাতীয় চরিত্র বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ উড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার ভিডিও অ্যানালিস্ট

জুলাই বিপ্লবের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও মূল্যায়ন প্রদান করবে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা অকাতরে জীবন দিয়েছেন, সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। তিনি আশ্বস্ত করেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিচারের নামে যেন কোনোভাবেই কারও প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ পুনর্গঠনের পথে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, নতুন দেশ গঠনের এই অগ্রযাত্রাকে অন্য কোনো শক্তি যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ সময় তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনের শহীদদের সম্মান জানাতে এবং আহতদের পুনর্বাসনসহ বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে এই আন্দোলনের জাতীয় চরিত্র বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।