৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে গোল মিস করায় হত্যার হুমকি, আত্মগোপনে ফুটবলার

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হত্যার হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার হ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

এক বিবৃতিতে ফেডারেশন জানায়, দেশের হয়ে মাঠে প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তাদের পরিবারের সদস্যদের এ ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ক্যাম্পাজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন হ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায় এবং সেখানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইজারল্যান্ড। আর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে কলম্বিয়ার।

ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী নির্ধারিত বিমানে ওঠেননি কাম্পাস। আত্মগোপনে যাওয়ার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কাম্পাস। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানোর, মাঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনার, লাখো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বকাপে গোল করার।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই যে আনন্দের অপেক্ষায় ছিলাম, তা এনে দিতে না পারার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে আমি আপনাদের জানাতে চাই, এই জার্সির প্রতি আমার নিবেদন, প্রতিশ্রুতি এবং ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। মাঠে আমি আমার সর্বোচ্চটাই দিয়েছি, আর দেশের জন্য এই কাজ আমি আরও হাজারবার করতে প্রস্তুত।’

এর আগে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে খুন হয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে আজও স্মরণ করা হয় সেই ঘটনাকে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

২৭২ রানেই অলআউট বাংলাদেশ, ওয়ারিক্যানের ৫ উইকেট

বিশ্বকাপে গোল মিস করায় হত্যার হুমকি, আত্মগোপনে ফুটবলার

Update Time : ০২:২৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হত্যার হুমকি পেয়েছেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার হ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

এক বিবৃতিতে ফেডারেশন জানায়, দেশের হয়ে মাঠে প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তাদের পরিবারের সদস্যদের এ ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ক্যাম্পাজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন হ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায় এবং সেখানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইজারল্যান্ড। আর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে কলম্বিয়ার।

ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী নির্ধারিত বিমানে ওঠেননি কাম্পাস। আত্মগোপনে যাওয়ার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কাম্পাস। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানোর, মাঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনার, লাখো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার এবং বিশ্বকাপে গোল করার।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই যে আনন্দের অপেক্ষায় ছিলাম, তা এনে দিতে না পারার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে আমি আপনাদের জানাতে চাই, এই জার্সির প্রতি আমার নিবেদন, প্রতিশ্রুতি এবং ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। মাঠে আমি আমার সর্বোচ্চটাই দিয়েছি, আর দেশের জন্য এই কাজ আমি আরও হাজারবার করতে প্রস্তুত।’

এর আগে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে খুন হয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে আজও স্মরণ করা হয় সেই ঘটনাকে।