২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গারুড়িয়ায় চেয়ারম্যান নির্বাচন: রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি দাবি

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর গারুড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ খানকে ঘিরে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশ খান বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হবে এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন—এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ:
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের ব্যানার ও দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। পলাশ খানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও তারা দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা:
স্থানীয়দের মধ্যে পলাশ খানের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার বাবা আব্দুল সাত্তার খান গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তার ছোট ভাই আশিক খান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পলাশ খানের নেতৃত্বে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশাসনের নজরদারি দাবি:
অভিযোগকারীদের দাবি, চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো দলীয় বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, কিংবা এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

তাদের মতে, নির্বাচনের আগে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক পক্ষের জন্য সমান সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

পলাশ খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি:
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

বাকেরগঞ্জ দর্পণের অনুসন্ধান:
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের অবস্থান জানা গেলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। নির্বাচনী পরিবেশের স্বার্থে অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করে বাকেরগঞ্জ দর্পণ।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

কক্সবাজারের ইনানীতে মাটি ফুঁড়ে বের হচ্ছে গ্যাস ও আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

গারুড়িয়ায় চেয়ারম্যান নির্বাচন: রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি দাবি

Update Time : ০৯:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর গারুড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ খানকে ঘিরে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশ খান বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হবে এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন—এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ:
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের ব্যানার ও দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। পলাশ খানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও তারা দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা:
স্থানীয়দের মধ্যে পলাশ খানের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার বাবা আব্দুল সাত্তার খান গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তার ছোট ভাই আশিক খান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পলাশ খানের নেতৃত্বে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশাসনের নজরদারি দাবি:
অভিযোগকারীদের দাবি, চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো দলীয় বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, কিংবা এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

তাদের মতে, নির্বাচনের আগে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক পক্ষের জন্য সমান সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

পলাশ খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি:
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

বাকেরগঞ্জ দর্পণের অনুসন্ধান:
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের অবস্থান জানা গেলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। নির্বাচনী পরিবেশের স্বার্থে অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করে বাকেরগঞ্জ দর্পণ।