৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালিসে বাকেরগঞ্জের হাফেজ মোহন উদ্দিনের কাছে ক্ষমা চাইলেন আয়ুব আলী

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচিত হাফেজ মোহন উদ্দিনকে লাঞ্ছনার ঘটনায় অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত আয়ুব আলী।

জানা গেছে, হাফেজ মোহন উদ্দিন জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; চোখে খুব কম দেখেন। পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি তিনি ঘটক হিসেবেও পরিচিত এবং ইতোমধ্যে বহু বিয়ের মধ্যস্থতা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বেতাগী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন মোহন উদ্দিন। এ সময় একটি গাড়ি এসেছে মনে করে সামনে এগিয়ে গেলে অসাবধানতাবশত এক নারীর সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করলে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আউলিয়াপুর এলাকার ঘরজামাই ও ভ্যানচালক আয়ুব আলী মোহন উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিজের পরিচয় ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা জানানোর পরও তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মন্তব্যে উল্লেখ করেন, মোহন উদ্দিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল।

এ ঘটনায় মোহন উদ্দিনের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে। তার বড় ভাই নয়ন বিষয়টির বিচার দাবি করে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে শুক্রবার আউলিয়াপুর বাজারে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সালিসে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মোহন উদ্দিনের স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা।

সালিসে আয়ুব আলী নিজের ভুল স্বীকার করে হাফেজ মোহন উদ্দিনের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি মোহন উদ্দিনের পা ধরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং করমর্দনের মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে।

Tag :
About Author Information

Mohon

জনপ্রিয় খবর

সিলেটে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা, ভেঙে গেছে পেছনের কাচ

সালিসে বাকেরগঞ্জের হাফেজ মোহন উদ্দিনের কাছে ক্ষমা চাইলেন আয়ুব আলী

Update Time : ১০:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচিত হাফেজ মোহন উদ্দিনকে লাঞ্ছনার ঘটনায় অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত আয়ুব আলী।

জানা গেছে, হাফেজ মোহন উদ্দিন জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; চোখে খুব কম দেখেন। পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি তিনি ঘটক হিসেবেও পরিচিত এবং ইতোমধ্যে বহু বিয়ের মধ্যস্থতা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বেতাগী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন মোহন উদ্দিন। এ সময় একটি গাড়ি এসেছে মনে করে সামনে এগিয়ে গেলে অসাবধানতাবশত এক নারীর সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করলে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আউলিয়াপুর এলাকার ঘরজামাই ও ভ্যানচালক আয়ুব আলী মোহন উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিজের পরিচয় ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা জানানোর পরও তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মন্তব্যে উল্লেখ করেন, মোহন উদ্দিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল।

এ ঘটনায় মোহন উদ্দিনের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে। তার বড় ভাই নয়ন বিষয়টির বিচার দাবি করে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে শুক্রবার আউলিয়াপুর বাজারে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সালিসে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মোহন উদ্দিনের স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা।

সালিসে আয়ুব আলী নিজের ভুল স্বীকার করে হাফেজ মোহন উদ্দিনের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি মোহন উদ্দিনের পা ধরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং করমর্দনের মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে।