বাকেরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কারখানা নদী বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে বর্তমানে উত্তাল। প্রবল স্রোত, দমকা বাতাস ও উঁচু ঢেউয়ের মধ্যেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার করছেন হাজারো মানুষ। বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তাল নদীতে ঢেউয়ের তীব্রতায় খেয়া নৌকা দুলতে থাকলেও যাত্রী পারাপার অব্যাহত রয়েছে। নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। অধিকাংশ নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট না থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নিয়মিত পারাপারকারী যাত্রীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনের কারণে অনেকেই ঝুঁকি জেনেও নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বৈরী আবহাওয়ায় খেয়া চলাচলের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। নৌযানে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের মতে, প্রতিটি খেয়া নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, বৈরী আবহাওয়ায় প্রয়োজনে সাময়িকভাবে পারাপার সীমিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার পরিণতিতে অপূরণীয় প্রাণহানির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই নিরাপদ খেয়া পারাপার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এইচ এম রুহুল আমিন 



















