বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ফরিদপুর ইউনিয়নের ভোজমহল এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। কাকরধা অশ্বিনী কুমার মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের পূর্বপাশের ভোজমহল চাপরাসী বাড়ি থেকে আকন বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা সড়কটি হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কাদা মাড়িয়ে চলাচলের জন্য কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছেন সরু একটি সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোই এখন কয়েকশ পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে কাদা জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। পিচ্ছিল সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অসুস্থ ও জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী মানুষ। সড়কটি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা কিংবা থ্রি-হুইলার চলাচল করতে না পারায় গুরুতর অসুস্থ রোগীকে খাটিয়া কিংবা কোলে করে মূল সড়কে নিতে হয়।
এলাকার কৃষকরাও রয়েছেন বিপাকে। সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থার কারণে সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে আর কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। তাদের দাবি, বছরের পর বছর এভাবে অবহেলায় ফেলে না রেখে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।
ভোজমহল ও কাকরধা এলাকার বাসিন্দারা ইটের সলিং অথবা পাকা সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৬ নম্বর ফরিদপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
উন্নয়নের যুগে যেখানে পাকা সড়কের স্বপ্ন দেখছে মানুষ, সেখানে কাদার ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল- ভোজমহলবাসীর জন্য এটি শুধু দুর্ভোগ নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলারও প্রতিচ্ছবি।
এইচ এম রুহুল আমিন 



















